র‍্যানটিডিন জাতীয় অ্যান্টাসিড নিষিদ্ধ হচ্ছে, ওষুধ ছাড়াই গ্যাস-অম্বল কমিয়ে ফেলুন

গুড হেলথ ডেস্ক

গলার কাছে দলা পাকানো জ্বালা, তারপরেই বুকে কেমন চাপ লাগছে! একটা হাঁসফাঁস, দমবন্ধভাব। চিনচিনে একটা ব্যথা টানা হতেই থাকে। মাঝেমাঝে সেটা আবার চাগাড় দিয়ে ওঠে। বুক জ্বালা, বুকে ব্যথা মানেই অ্যাসিডিটি ভেবে গাদাগুচ্ছের অ্য়ান্টাসিড খেয়ে ফেলি আমরা।  সেই সময়টা আরাম মেলে ঠিকই কিন্তু অ্যান্টাসিড খাওয়ার নেশা তৈরি হয়ে যায় ধীরে ধীরে। ভবিষ্যতে এই অভ্যাসটাই অনেক বড় অসুখের কারণ হয়ে ওঠে। এমনকি মারণরোগ ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠতে পারে গাদা গাদা অ্যান্টাসিড খাওয়ার অভ্যাস।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সম্প্রতি তার জরুরি ওষুধের তালিকা থেকে র‍্যানটিডিন জাতীয় কিছু অ্যান্টাসিড সহ মোট ২৬টি ওষুধকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। র‍্যানট্যাক, জিনট্যাক, অ্যাসিলক জাতীয় ওষুধ এবার থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। এতদিন এইসব ওষুধই প্রায় প্রতিদিন খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলেছিলেন অনেকেই। সকালে উঠেই অ্য়ান্টাসিড খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, র‌্যানিটিডিনের মধ্যে থাকা এন-নাইট্রোসোডিমেথাইলামাইন (এনডিএমএ) নামে এমন এক উপাদান রয়েছে, যা থেকে ক্যানসারের আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া হার্টের সমস্যা, কিডনির রোগ সহ আরও নানা অসুখ বাসা বাঁধতে পারে।

 Stomach Acid

অ্য়ান্টাসিড ছাড়াই গ্যাস-অম্বল কমিয়ে ফেলুন এইভাবে

বেশির ভাগ বদহজম, গ্যাস, অম্বলের সমস্যায় মানুষ মুড়িমুড়কির মতো প্যান্টোপ্রাজ়ল বা র‍্যানটিডিন জাতীয় ওষুধ খান। এই ধরনের ওষুধ অ্যাসিডের ব্যালান্স নষ্ট করে দেয়। ফলে অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়াও নষ্ট হয়। তাছাড়া টানা বছরের পর বছর পিপিআই গ্রুপের ওষুধ খেলে অস্টিওপোরোসিসের আশঙ্কা থাকে। হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, কিডনির সমস্যাও হতে পারে।

অ্যাসিডিটি কমানো যেতে পারে ঘরোয়া উপায়েই। প্রত্যেক দিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খান। এতে শরীর তৈরি থাকবে খাবার হজমের জন্য।

 acid reflux

প্রোটিন খান তবে রোজ রোজ মাংস না খাওয়াই ভাল। দুধ, ডাল, ছানা ইত্যাদি খাবার রাখতে হবে রোজকার খাদ্যতালিকায়।

খেতে বসার মিনিট দশেক আগে এক গ্লাস জল খেয়ে নিন। এতে অতিরিক্ত অ্যাসিড ওয়াশ আউট হয়ে যাবে।

ভরপেট খাওয়ার ঘণ্টাখানেক পরে জল খান। মাছ-মাংস ভরপুর খাওয়ার পরে শরবত, কোল্ড ড্রিঙ্কস না খাওয়াই ভাল।

Acid Reflux Diet Questions & Answers, What is Acid Reflux Diet? | Lybrateখাবার পরেই ভাতঘুম দেবেন না। বরং একটু হাঁটাচলা করে নিন। অন্তত ৪৫ মিনিট সোজা হয়ে বসুন, পারলে হেঁটে আসুন।

একদিন অস্বাভাবিক খেয়ে ফেলেছেন, এরপর একটু বুঝে খান। পরপর দু’দিন অন্তত হাল্কা খান। পাতলা মাছের ঝোল, ডালের জল খেতে পারেন। ভাত এক কাপের বেশি নেবেন না। প্রচুর গ্রিন স্যালাড খান।

শসার রস পেট ঠান্ডা রাখে। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থাকলে নিয়মিত শসার রস খেতে পারেন।

খাবার পরে মৌরী-মিছরির জল খান, এতে পেট ঠান্ডা থাকবে। ঘণ্টা খানেক আগে ভিজিয়ে রাখবেন।

ক্রনিক সমস্যা থাকলে ডাক্তারের কাছে যান। প্রয়োজনে গ্যাস্ট্রোস্কোপি করিয়ে নেবেন। ভাল খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ থাকাও কিন্তু জরুরি।

ব্যায়াম ও শরীরচর্চা নিয়মিত জরুরি। নিজেকে যত সচল রাখবেন, গ্যাস তত কম হবে।