Anemia: রক্তাল্পতা থাবা বসাবে না, রোজকার জীবনে অভ্যাস বদলান

রক্তে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে তাকেই বলেই রক্তাল্পতা (Anemia)। ডাক্তাররা বলেন, রক্তাল্পতা কোনও রোগ নয়। বরং রোগের লক্ষণ। নানা অসুখের কারণ এই রক্তাল্পতা। মূলত মহিলা ও শিশুরাই এই রোগের শিকার, তবে পুরুষরাও ভোগেন রক্তাল্পতায়। অ্য়ানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পরে নিয়ম মানা শুরু করে লাভ নেই, বরং আগেভাগেই জীবনযাপনের অভ্যাসে ও খাদ্যাভ্যাসে বদল আনুন। তাহলেই রক্তল্পতা ঠেকানো সম্ভব হবে।

 

কখন বুঝবেন আপনি অ্য়ানিমিক (Anemia)? 

রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ যদি কমতে থাকে তাহলে তাকে অ্যানিমিয়া বা রক্তল্পতা বলে। রক্তাল্পতা মানে রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া নয়, বরং লোহিত রক্তকণিকার মধ্যে যে প্রোটিন থাকে যাকে আমরা বলি হিমোগ্লোবিন, সেই প্রোটিনের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার থেকে কমে যাওয়া। এই হিমোগ্লোবিন প্রোটিনের মধ্যে থাকে আয়রন এবং ট্রান্সপোর্ট অক্সিজেন। হিমোগ্লোবিন কমে গেলে শরীরে আয়রনের অভাব হয়, যার কারণে নানা রোগ বাসা বাঁধে। অ্যানিমিয়াকে তাই ‘আয়রন ডেফিসিয়েন্সি’ (Iron Deficiency) বলে।

The difference of Anemia amount of red blood cell and normal Stock Vector Image & Art - Alamy

সাধারণত পুরুষ ও নারীর শরীরে এই হিমোগ্লোবিনের একটা স্বাভাবিক মাত্রা আছে, পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৩.৮ থেকে ১৭.২ গ্রাম/ ডেসিলিটার, আর মহিলাদের ১২.১ থেকে ১৫.১ গ্রাম/ ডেসিলিটার। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা যদি এই পরিমাণের থেকে কমে যায় তাহলেই রক্তল্পতা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।  যদি দেখা যায় কারও শরীরে প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ১১ গ্রাম বা তার কম পরিমাণে হিমোগ্লোবিন আছে, তাহলে তাকে অ্যানিমিক বলা যাবে।

Heat Stroke Treatment: হিট স্ট্রোকে হঠাৎ অসুস্থ? সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন

লক্ষণ চিনে টেস্ট করান–অ্যানিমিয়ার ফলে রোগী যে কোন কাজেই অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করেন। দীর্ঘদিনের ক্লান্তি মানসিক অবসাদের কারণও হতে পারে। তা ছাড়া অ্যানিমিয়া থেকে শরীরে হরমোনজনিত নানা সমস্যা দেখা দেয়। যার থেকে চুল পড়ে যায়, সবসময় মাথা ঘোরে, ঝিমুনি লাগে। চামড়ার রঙ ফ্যাকাসে হতে পারে। অনেকের আবার শ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়, বুকে ব্যথা হয়, হাত-পায়ের পেশিতে খিঁচুনি হতেও দেখা যায়। এইসব উপসর্গ দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।

Anemic

রক্তাল্পতা হবেই না, রোজকার জীবনে কী কী নিয়ম মানবেন

প্রথমেই নজর দিন ডায়েটে। দিনে অন্তত দু’বার ঘরে বানানো টাটকা সুষম খাবার খান৷ বাইরের খাবার নয়, চেষ্টা করুন বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যেতে৷ দিনের একটা খাবার ফল, দই, রায়তা দিয়ে সারার চেষ্টা করুন৷

দুধ, ডিম, পালং শাক, বেদানা, খেজুর, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রনের ঘাটতি অনেকটাই মেটে।

ভরা পেটে ফল খাওয়ার তেষ্টা করুন, কখনও খালি পেটে খাবেন না।

Iron Deficiency রাতে শুতে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগে ডিনার সেরে নিন। রাতের খাবার হাল্কা খান। মাছ-মাংস বা ডিম খাওযার পরে দুধ খাবেন না।

রেড মিট খাওয়া সব সময় খারাপ নয়। ক্যালোরির কথা ভেবে আজকাল অনেকেই রেড মিট খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন, বিশেষত মহিলারা। চিকিৎসকদের মতে, সপ্তাহে একদিন অন্তত দুই থেকে চার আউন্স পরিমাণ যদি রেড মিট খাওয়া যায়, তাহলে শরীরে আয়নের ব্যালান্স ঠিকঠাক থাকে।

শিশুদের রক্তল্পতা কেন হয়, কীভাবে যত্ন নেবেন

বেশ কয়েক বছর আগে, কেন্দ্রীয় সরকারের নানা সমীক্ষায় উঠে এসেছিল, দেশের এক বড় অংশের শিশুর আনাহার এবং অপুষ্টির কথা। শিশুদের সেই অপুষ্টির অভাবের দূর করতে, তখন সরকারের তরফ স্কুলে স্কুলে শুরু হয়েছিল মিড-ডে মিল কর্মসূচি। কিন্তু তার পরেও দেখা গিয়েছে, দরিদ্র পরিবারের শিশুরা রক্তাল্পতায় ভুগছে। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, শিশুদের রক্তাল্পতার বড় কারণ আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের অভাব। তাছাড়া অপরিষ্কার শৌচাগার ব্যবহার করলে কৃমি বা হুকওয়ার্মের সমস্যা হতে পারে। কৃমি পাকস্থলী থেকে রক্ত শুষে নেয়। ফলে কৃমি রক্তাল্পতার অন্যতম কারণ।

বাচ্চাদের তাই সুষম খাবার দিতে হবে গোড়া থেকেই। পালং শাক, সব্জি, ফল, পুদিনা খাবারে সুষম মাত্রায় থাকা দরকার। বাচ্চাদের ছোলা, সোয়াবিন, মাংসের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পাশাপাশি, খাবারগুলি যাতে পরিচ্ছন্ন ভাবে রান্না করা হয়, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় যে, অপরিচ্ছন্নতার কারণেও বাচ্চাদের কৃমি হয়। তার জেরে ঘটতে পারে সংক্রমণও। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের প্রয়োজনীয় যত্ন নিলে ভবিষ্যতে রক্তাল্পতার আশঙ্কা অনেকটাই দূর করা যায়।