ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হচ্ছে না তো? কী কী লক্ষণ দেখে বুঝবেন

সুস্থ থাকার জন্য প্রতি দিনের ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট থাকা যেমন জরুরি, তেমনই ভিটামিন, মিনারেলও প্রয়োজনীয়। আর এই মিনারেলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যালসিয়াম (Calcium)। ক্যালসিয়ামের গুরুত্ব শরীর গঠনের জন্য অনেক। ক্যালসিয়াম শরীরের হাড় মজবুত করে, কেটে গেলে রক্ত পড়া বন্ধ করে, শরীরে বিকাশ ও মাংসপেশি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। রোগ প্রতিরোধ বাড়াতেও ক্য়ালসিয়ামের ভূমিকা অনেক।

শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে তাকে হাইপোক্যালসেমিয়া বলে। এটি তখনই হয় যখন আমাদের শরীরের ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক থাকে না। ক্যালসিয়ামের (Calcium) অভাবের কারণে নানা রকম শারীরিক সমস্য়া দেখা দেয়। দীর্ঘদিন যদি শরীরে ক্যালশিয়ামের অভাব থাকে, তা হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তলানিতে এসে ঠেকতে পারে।  বাচ্চাদের মধ্যে রিকেট, বয়স্কদের মধ্যে অস্টিওপোরোসিস দেখা দিতে পারে।

Calcium

ক্যালসিয়ামের অভাব মেটাতে মুঠো মুঠো ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট খাওয়া খুবই বিপজ্জনক। বরং প্রাকৃতিক উপাদান থেকে ও ঘরোয়া উপায় খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করাই জরুরি।

শরীরে ক্যালসিয়ামের (Calcium) অভাব হয় কেন?

দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা, অপুষ্টি, হরমোনজনিত সমস্যা, অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ, শরীরে ভিটামিন ও খনিজের অভাব হলে ক্য়ালসিয়ামের (Calcium) ভারসাম্য বিগড়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত ব্যায়াম করলেও শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে।

অ্যালকোহল, তামাক, অতিরিক্ত নুন খাওয়ার কারণে ক্যালসিয়ামের অভাব হতে পারে।

ঠান্ডা পানীয়, জাঙ্ক ফুড বেশি খেলে ঘাটতি হতে পারে।

মেনোপজের পরে মেয়েদের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হয়।

অতিরিক্ত মেদ, চিনিযুক্ত খাবার, প্রোটিন ডায়েটের কারণে ক্যালসিয়ামের অভাব হতে পারে।

কোলেস্টেরল আকাশছোঁয়া? নজর দিন ডায়েটে, কী খাবেন, কী খাবেন না

Calcium

লক্ষণ কী কী?

রক্তে মিশে থাকা ক্যালসিয়াম স্নায়ুতে সঙ্কেত পাঠানো, হরমোনের ক্ষরণ ও মাংসপেশির সঙ্কোচন-প্রসারণে সাহায্য করে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে হাড় ভঙ্গুর হয়, পেশির সঙ্কোচন-প্রসারনে বাধা তৈরি হয়। ফলে শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা হতে পারে।

হাইপোক্যালশেমিয়ার কারণে পেশির খিঁচুনি হতে পারে।

ক্যালসিয়ামের (Calcium) অভাবে নখ শক্ত ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।

শরীরের শতকরা ৯০ ভাগ ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ে জমা থাকে। যদি ক্যালসিয়াম কমে যায় তবে দাঁত ও হাড় ব্যথা করতে পারে।

পিরিয়ডের সময় মারাত্মক ব্যথা হতে পারে, ক্র্যাম্প বেশি হতে পারে।

Calcium

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে, সারাক্ষণ ক্লান্তি, ঝিমুনি লাগবে। অল্পেই শরীর খারাপ হবে।

স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে। মানসিক অবসাদ, ইনসমনিয়া বা অনিদ্রার সমস্যা শুরু হতে পারে।

আচমকা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাবে।

পেট ব্যথা, বমি ভাব দেখা দেয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা বাড়ে।

মাড়ির রোগ, দাঁতের ক্ষয় হবে।

ক্যালসিয়ামের (Calcium) স্তর কম হলে ত্বকে স্বাস্থ্যকর pH বজায় থাকে না, ফলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে হয়ে যায়।