কলকাতার কিশোরের মৃত্যু ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভারে, কতটা মারাত্মক এই রোগ, চিনবেন কী করে?

গুড হেলথ ডেস্ক

বৃষ্টি বাদলার দিনে জ্বর হলেই ভয়, ডেঙ্গি (Dengue) নয়তো! আর পাঁচটা ভাইরাল ফিভারের সঙ্গে ডেঙ্গি জ্বরের খুব তফাৎ নেই। তবে ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভার হলে রোগীর প্রাণ বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়ে। কলকাতায় কালিঘাটের বাসিন্দা ১২ বছরের বিশাখ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু ডেঙ্গি হেমারেজিক শক সিন্ড্রোমে হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সাধারণ ভাইরাল ফিভারের সঙ্গে ডেঙ্গি জ্বরকে গুলিয়ে ফেলে অবহেলা করলে অনেক সময় গুরুতর সমস্যার সম্ভাবনা থাকে। ডেঙ্গির জীবাণুবহনকারী মশা কামড়ানোর তিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর শুরু হয়। যেহেতু বর্ষার এই সময়টায় ডেঙ্গি আর ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে তাই জ্বর হলে নিজেরা চিকিৎসা না করে ডাক্তার দেখানো উচিত।

Dengue

ডেঙ্গি (Dengue) বুঝবেন কী করে?
• শরীরের পেশি ও সন্ধিস্থলে প্রচণ্ড ব্যথা (এ জন্য ডেঙ্গির আরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’)
• মাথা ও বিশেষ করে চোখের মণির পিছনে ব্যথা
• প্রস্রাব কম হওয়া
• ফিরে ফিরে ধুম জ্বর আসা
• জ্বরের সঙ্গে বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, ডায়েরিয়া, সর্দি-কাশি
• আক্রান্ত হওয়ার ২-৫ দিনের মধ্যে ত্বকে লাল লাল র‍্যাশ
• হেমোরেজিক ডেঙ্গিতে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত
• কালো পায়খানা সঙ্গে রক্ত
• ব্লাড প্রেশার কমে যাওয়া

ডেঙ্গিতে আর মৃত্যু নয়! জেলাশাসকদের গাপ্পি মাছ চাষে জোর দিতে বললেন রাজ্যের মুখ্যসচিব

Dengue Symptoms

ডেঙ্গি ভাইরাস চার রকমের–ডিএএন -১ থেকে ডিএএন -৪, সম্প্রতি অবশ্য আর একটি ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে ডেঙ্গির যে ভাইরাসই আমাদের শরীরে ঢুকুক না কেন, প্রথমেই মারাত্মক ডিহাইড্রেশন তৈরি করে। ডেঙ্গি (Dengue) চেনার এটাও একটা উপায়।

ডেঙ্গি (Dengue) জ্বরের এক উল্লেখযোগ্য লক্ষণ প্লেটলেট বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়া। প্লেটলেট কমে গেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এই জ্বরের জীবাণু হামলা হতে পারে যে কোনও অঙ্গেই। জ্বরের মধ্যে দাঁত মাজতে গিয়ে আচমকা মাড়ি থেকে রক্ত বেরলে ডেঙ্গির রক্ত পরীক্ষা করা উচিত বলে মনে করছেন ডাক্তারবাবুরা। ডেঙ্গির সময়  তিনটে জিনিস মাথায় রাখতেই হবে–এক, রোগীর জ্বর, দুই, কম প্লেটলেট ও তিন, গায়ে র‍্যাশ। তখন আর দেরি করা চলবে না, পরীক্ষা করে ট্রিটমেন্ট শুরু করতে হবে। সেই সঙ্গে কোভিড টেস্টও মাস্ট। ডেঙ্গি হলেই যে করোনা হবে না তেমনটা তো নয়। তাই একদিকে যেমন রক্তের কিছু পরীক্ষা জরুরি, তেমনি সেই রোগীর আরটি-পিসিআর টেস্টও করিয়ে নিতে হবে।

সচেতনতাই বড় প্রতিষেধক

ডেঙ্গি ভাইরাসের কোনও স্বীকৃত টিকা নেই। এর প্রতিরোধ নির্ভর করে জীবাণুবাহী মশা নিয়ন্ত্রণ ও তার কামড় থেকে বাঁচার উপরে। সাধারণত দেখা যায়, যে অঞ্চলে একটি ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে, সেখানে অন্য Dengue Mosquitoes Can Be Tamed by a Common Microbe - The Atlanticসংক্রামক রোগের প্রকোপ কম হয়। কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গি মশা নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদ্ধতি হল এর বৃদ্ধির পরিবেশকে ধ্বংস করা। ডেঙ্গির মশা সাধারণত স্থির ও পরিষ্কার জলে ডিম পারে। তাই বাড়ির চারপাশে যাতে কোনও জায়গায় জল না জমে থাকে তা দেখতে হবে। বাড়ির আশপাশের নর্দমা, ডোবা জল জমতে না দেওয়া ও পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়া বাড়িতে জল জমিয়ে রাখা যাবে না। ভাঙাপাত্র, টবে যাতে জল না জমে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রকম মশা নিরোধক কীটনাশক বা বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল এজেন্ট স্প্রে করা যেতে পারে। আর মশা উপদ্রত অঞ্চলে মশারি টাঙানো মাস্ট।

চিকিৎসা কী?
জল, স্যালাইন তো রয়েছেই। সঙ্গে উপসর্গ দেখা দিলে ২-৩ দিনের মধ্যে এন এস ওয়ান অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করাতে হবে। এ ছাড়া আইজিএম এবং আইজিজি এলাইজা টেস্টও করাতে হতে পারে। ডেঙ্গি ধরা পড়লে প্রতিদিন প্লেটলেট কাউন্ট করা দরকার। প্লেটলেট অতিরিক্ত কমে গেলে বাইরে থেকে প্লেটলেট দেওয়া হয়। এ সময় ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যাসপিরিন, আইব্রুফেন জাতীয় পেইনকিলার খাওয়া একেবারেই অনুচিত। এতে ক্ষতি আরও বেশি হবে। ডেঙ্গি হলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে, তাই বেশি করে জল, ফলের রস, স্যুপ, ডাল ইত্যাদি তরল খাবার খাওয়া জরুরি।