বর্ষায় একজিমার জ্বালা, চুলকানি বাড়ে, সারবে কী করে?

গুড হেলথ ডেস্ক

বর্ষার সময়ে ত্বকের নানা সংক্রমণজনিত অসুখবিসুখ বাড়ে। চর্মরোগের মধ্যে একজিমা (eczema) খুবই অস্বস্তিকর। ত্বকে চুলকানি, জ্বালা, শুষ্ক হয়ে যাওয়া, এমনকী লালচে র‍্যাশের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সব বয়সেই ত্বকের এই অসুখ ভোগায়। একজিমার সমস্যা যে কোনও ঋতুতেই দেখা দিতে পারে। তবে বর্ষার সময় এর প্রকোপ বাড়ে। চিকিৎসার পরিভাষায় এরই নাম অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস।

কেন হয় একজিমা (eczema)?

এই সমস্যার নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। অনেক চিকিৎসক মনে করেন জিনগত এবং পরিবেশগত কারণের জন্যই এই অসুখ হয়। বাবা-মায়ের কারও এই সমস্যা থাকলে, সন্তানেরও হতে পারে। তাছাড়া ধুলো, পোকামাকড়, পোষ্য, ফুলের রেণুর অ্যালার্জেন থেকেও সমস্যা বাড়তে পারে। বিভিন্ন ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা, বেশি আর্দ্রতা বা আর্দ্রতার অভাব, বেশি ঘাম হলেও ত্বকের সংক্রমণ হতে পারে। ৯০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সের আগে এবং ১০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সের পরে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

 eczema

চর্মরোগ সারবে কী করে?

বয়স, রোগের লক্ষণ এবং শরীরে অন্যান্য অসুখবিসুখের নিরিখে চিকিৎসার ধরন ঠিক করা হয়। ঠিক চিকিৎসায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একেবারেই সেরে যায় একজিমা (eczema)। তার জন্য কিছু নিয়ম মানতে হবে–

১) সব সময় ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
২. বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বাড়ি ফিরে সঙ্গে সঙ্গে স্নান করুন।
৩. ত্বকের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভাল জীবাণুনাশক সাবান ব্যবহার করুন।
৪. একজিমায় যারা ভুগছেন তাঁরা বর্ষায় হাল্কা গরম জলে স্নান করুন (eczema)।
৫. নিমের তেল ও নারকেল তেল সমমাত্রায় মিশিয়ে সপ্তাহে অনন্ত তিনবার ত্বকে লাগাতে পারেন।

Eczema

৬. চুলকানি কমানোর জন্য অ্যান্টি-হিস্টামিন খেতে পারেন। এরপরও যাঁদের ভীষণ চুলকানি হয়, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু স্টেরয়েড মলম ব্যবহার করতে পারেন। ময়েশ্চারাইজিং লোশন ও এই স্টেরয়েড ক্রিম একই জায়গায় একই সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না।

 itch

৭. চেষ্টা করুন নরম সুতির কাপড় পরতে। পোশাক নিয়মিত কেচে পরিষ্কার করাও জরুরি।

মানসিক চাপ থেকেও একজিমার অস্বস্তি বাড়ে। এ সময়ে শরীরে অ্যাড্রিনালিন, নর-অ্যাড্রিনালিন, সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। ফলে একজিমার চুলকানি ও জ্বালা বাড়তে পারে। তাই মনের জোর রাখাটাও সবচেয়ে আগে জরুরি।