চাকরি করেন যে মহিলারা তাঁরা রোজের ডায়েটে কী কী রাখবেন?

গুড হেলথ ডেস্ক

মেয়েরা এখন প্রকৃতপক্ষেই দশভুজা। ঘরে, বাইরের সমস্ত কাজ একজন পুরুষ যতটা দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন, নারীরা সামলাতে পারেন তার চেয়েও বেশি (Healthy Diet)। এখন দেখা যায় পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা, অফিসে কাজের বোঝা, সামাজিক দায়-দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে গিয়ে,অনেক মহিলাই স্বাস্থ্যের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা রোজকার জীবনে পুষ্টিজনিত সমস্যার শিকার বেশি হন।

সংসার এবং কর্মক্ষেত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে স্বাস্থের দিকে (Healthy Diet) মনোযোগ কম পড়ে, ফলে সৃষ্টি হয় স্থূলতা, থাইরয়েড, ডায়াবেটিসের মত নানাবিধ শারীরিক জটিলতা। এইসব সমস্যাগুলো পরবর্তীতে সুস্থ জীবনযাপনের মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই সফল হতে গেলে নারীর সুস্থতাও একান্ত কাম্য। গর্ভাবস্থায় ও ঋতুচক্রের সময় মহিলাদের অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়। তাই শরীর সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভাস ও সামান্য সচেতনতা।

শরীরের সম্পূর্ণ পুষ্টি জোগাতে বয়স নির্বিশেষে রোজের খাদ্যতালিকায় (Healthy Diet) বিভিন্ন মরসুমি ফল রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। মরসুমি ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বেশ কিছু ফল রয়েছে , যা মহিলাদের সুস্থতায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।

আপেল: সারা বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ফলগুলির মধ্যে অন্যতম হল আপেল। কথায় আছে, আপেল আমাদের ডাক্তারদের থেকে দূরে রাখে। এটা শুধু কথার কথা নয়, ভিটামিন ও মিনারেলসে পরিপূর্ণ এই ফল আমাদের বাড়তি ইমিউনিটি দেয়। ফলে দূরে থাকে অসুখ-বিসুখ। আপেলে থাকে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

বেদানা: মহিলাদের মধ্যে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা খুবই সাধারন। বিশেষত ভারতীয় মহিলারা অধিকাংশই রক্তে হিমোগ্লোবিনের কমতিতে ভোগেন। মাসিক ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসবের সময়ে এই হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি বাড়তি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। রক্তাল্পতায় ভোগা নারীদের জন্য বেদানা খুব উপকারি। এর আয়রন দেহে রক্তের ঘাটতি পূরণ করতে ও অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে খাদ্যতালিকায় বেদানা রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন: মানসিক চাপ, উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে হৃদরোগের ঝুঁকি, মন ভাল রাখতে কী কী করবেন

আমলকি: খুবই কম দাম, অথচ গুণে কম নয়। মহিলাদের জন্য ভীষণ উপকারী আমলকি। আয়রন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় এই ফল গর্ভাবস্থায় মাথাঘোরা, রক্তশূন্যতা, বমিভাবের মত বিভিন্ন সমস্যার উপশম করে।

পেঁপে : শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারি (HealthyDiet)। ভিটামিন এ, সি, ফলেট এবং অন্যান্য ফাইটোকেমিক্যালের উৎকৃষ্ট উৎস পেঁপে। পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা গর্ভবতী মহিলা ও তার শিশুকে অপরিহার্য পুষ্টি সরবরাহ করে। এতে শিশুর সার্বিক বিকাশলাভ হয়।

Healthy Diet

অ্যাভোক্যাডো: একটু দামি হলেও অনেকটা উপকারী। অত্যন্ত সুস্বাদু এই ফল ওজন কমাতে ও ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। অ্যাভোক্যাডোতে স্বাস্থ্যকর মনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল কম করতে সাহায্য করে ও হার্ট ভালো রাখে। মহিলাদের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে খুবই কার্যকরী এই ফল।

নানা রকম বাদাম: বিভিন্ন ধরনের বাদামে ‘গুড ফ্যাট’ এবং প্রোটিন থাকে। আমন্ড, পেস্তা, ওয়ালনাট, কাজু বাদাম, চিনে বাদাম— সবই স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স হিসেবে খেতে পারেন। কিছু বাদাম রাতে ভিজিয়ে রাখলে সকালে ঘুম থেকে উঠে জলখাবারের আগে খেয়ে নিন। অনেক বেশি উপকার পাবেন। সকালের ব্যস্ততায় চটজলদি খাওয়াও হয়ে যাবে। এ ছাড়া চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্সসিড, কুমড়োর বিজ বা অন্য কোনও বিজ দিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে রেখে দিন। বিকেলের দিকে খিদে পেলে অল্প একটু খেয়ে নিতে পারেন।

Balanced Diet Chart

ওটস: চটজলদি স্বাস্থ্যকর জলখাবারের জন্য ওট্‌সের মতো ভাল জিনিস হয় না। ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ওট্‌স। গ্লুটেন যদি আপনার সহ্য না হয়, তা হলে ওট্‌স আপনার ভাল বন্ধু হয়ে উঠবে। ওট্‌স গুঁড়ো করে তা দিয়ে রুটি, কেক, প্যানকেক— সব রকমই বানাতে পারেন। দুপুরের খাবারেও চলতে পারে ওট্‌সের খিচুড়ি। বিশেষে করে আপনি যদি ওজন কমানোর ডায়েট করেন।