অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণ কী? সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন কীভাবে

নিয়মিত ঋতুস্রাব হলে তা সুস্থতার লক্ষণ। কারণ ঋতুস্রাবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মনের ভাল থাকা, হরমোনের সমতা। ভারী ঋতুস্রাব (menstruation) অনেকেরই হয়। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল বা ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পরে প্রথম প্রথম ব্লিডিং বেশিই হয় অনেকের (Irregular Periods)। এতে ভয়ের খুব একটা কারণ নেই। কিন্তু যদি ঋতুস্রাব অনিয়মিত হতে থাকে অথবা হেভি ব্লিডিং শুরু হয় তখন চিন্তার কারণ আছে। এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। 

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অনিয়মিত ঋতুস্রাবের (Irregular Periods) কারণ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম বা পিসিওএস (PCOS)। এই অসুখের কারণে ওজন বৃদ্ধি, লিপিড প্রোফাইল বৃদ্ধি, এমনকি ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম হলে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে মেয়েদের হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 Irregular Periods

কী কী কারণে অনিয়মিত পিরিয়ড (Irregular Periods) হতে পারে?

ভুল ডায়েট– ভুল পদ্ধতিতে ডায়েট করলে তার থেকে হরমোনের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। কী পরিমাণ খাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন এবং কখন খাচ্ছেন সবটাই গুরুত্বপূর্ণ। ভুল পদ্ধতিতে ডায়েট করে ফেললে ভোগান্তি হবেই। এই কারণেও পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত শরীরচর্চা শরীরের উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়লে কর্মক্ষমতা কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে বিপাকক্রিয়ার ওপরে। শরীর বাড়তি শক্তি (এনার্জি) তৈরি করতে চায়। ফলে হজমের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এইসবের কারণে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যেতে পার। আর তার প্রভাব পড়ে ঋতুচক্রের উপরে।

পিসিওএস আজকালকার দিনে প্রায় বেশিরভাগ মহিলাদেরই অন্যতম সমস্যা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম বা পিসিওএস (PCOS)। বলতে গেলে মহামারীর মতোই এই অসুখ ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে। ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট ছোট সিস্ট থাকাকেই বলে পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম অথবা পিসিওডি বা পলিসিস্টিক ওভারি ডিজিজ (PCOD)।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম একটি হরমোনাল সমস্যা। শরীরের জরুরি তিনটি হরমোন ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং টেসটোস্টেরন উৎপাদন কমে যাওয়ায় পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের সমস্যা হয়। ফলে পিরিয়ড দেরিতে হয়।

থাইরয়েডের সমস্যা– থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে গেলেও নানানটা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বাড়লে ঋতুস্রাবের (Irregular Periods) পরিমাণ ক্রমশ কমে আসবে। সেই সঙ্গে হার্টরেটও বেড়ে যাবে।

স্ট্রেস– এখনকার সময় মানসিক চাপ বা স্ট্রেসে ভুগছেন বেশিরভাগই। স্ট্রেস বেড়ে গেলে হরমোনের নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর কারণে পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে যায়।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া–  হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, থাইরয়েডের ওষুধ, অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট, ব্যথা কমানোর ওষুধ, মৃগীরোগের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে।

পিরিয়ড অনিয়মিত (Irregular Periods) হয়ে গেলে দেরি না করে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্টও জরুরি।

নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। পিরিয়ডের সমস্যা দূর করতে যোগব্যায়াম করা খুব ভাল। 

খাওয়াদাওয়ায় বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করুন ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি। টুনা মাছ, মাংস, ডিমের কুসুম, চিজ-সহ নানা দুগ্ধজাত পদার্থ, কলা, বিনm ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন ডি ও বি থাকে। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।