হজমের গোলমাল হচ্ছে? খিদে নেই, সবসময় পেট ভার, রেহাই মিলবে কীসে?

গুড হেলথ ডেস্ক

স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন? তাও হজমের সমস্যা হচ্ছে?

ডায়েট করেন, তবে মাঝেমধ্যে জাঙ্ক ফুড খেয়ে ফেলেন। ওষুধও খান। তাও হজমের (Indigestion) গোলমাল কমছে না।

বাঙালি আর বদহজম (Indigestion) যেন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে। কেউ প্রচুর বাইরের খাবার খান এবং হজমের সমস্যায় ভোগেন, কেউ ডায়েট মেনেই খান কিন্তু সময়ের গণ্ডগোল হয়ে যায়, ফলে বদহজম ভোগায়। হজমের গোলমাল ঘন ঘন হতে থাকলে তার থেকে অন্য সমস্যা দেখা দিতে থাকে। অ্য়াসিডিটি ক্রনিক হয়ে যায়, ঠিকমতো পেট পরিষ্কার হয় না ফলে ইরিটেবল বাওয়াল সিনড্রোম দেখা দেয়।

লাগাতার হজমের গণ্ডগোল হতে থাকলে কী কী করবেন আর কী কী করবেন না জেনে নিন।

 Indigestion

বাইরের খাবার একদম বন্ধ

ডায়েটের ধার ধারেন না যাঁরা, তাঁরা বাইরের তেলমশলাদার খাবার একদম বন্ধ করে দিন। জাঙ্ক ফুড শরীরের জন্য বিষ। বাড়িতেও ভাজাভুজি কম খান। হাল্কা কম মশলা দেওয়া বাড়ির খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

ডায়েট মেনেই খাচ্ছেন কিন্তু হজম হচ্ছে না, তাহলে দেখুন গলদটা কোথায় হচ্ছে। হয়ত তিনদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন, চতুর্থ দিনে গিয়ে মনে হচ্ছে একটু বার্গার খেয়েনি, একদিনে কিছু হবে না। তাহলে মারাত্মক ভুল করছেন। বার্গার, সসেজ, প্যাকেটজাত খাবার, প্রসেসড মাংস, আইসক্রিম, কোল্ডড্রিংক্স পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। ম্যাগি, চাউমিন যতটা পারবেন কম খান।

গরম খাবার খান

ফ্রিজ থেকে বের করেই খেয়ে নেবেন না। খাবার ভাল করে গরম করে খান। টাটকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। অনেকেই বেশিদিন ফ্রিজে রেখে খাবার খান। এই অভ্যাস ভাল নয়। তাতে বাড়ির খাবার খেলেও ভাল করে হজম হতে চায় না। বাইরে থেকে কখনও কিছু কিনে আনলেও তা গরম করে খান।

 Remedies for Indigestion

খিদে না পেলে খাবেন না

অভ্যাস বসে নয়, বরং খিদে পেলে তবেই খান। চোখের খিদেতে অনেক সময় আমরা স্ট্রিট ফুড খেয়ে ফেলি, এটা বন্ধ করতে হবে। বাড়িতেও খিদে পেলে তবেই খান। জোর করে নয়। ডায়েট করছেন যাঁরা তাঁরা অনেক সময় খিদে না থাকলে একগাদা ফল খেয়ে ফেলেন। তাতেও হজমের গোলমাল হতে পারে।

Indigestion

দুটি মিলের মধ্যে যেন বেশি সময় না থাকে

ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন অনেকেই। দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার কারণে ব্রেকফাস্ট না খেয়ে বা কম খেয়ে বেরিয়ে যান। তারপর লাঞ্চে প্রচুর খেয়ে ফেলেন বা মাঝে খিদে ফেলে জাঙ্ক ফুড, ভাজাভুজি স্ন্যাকস খেয়ে ফেলেন। বদহজমের সূত্রপাত হয় এখান থেকেই। ডায়েটিশিয়ানরা বলছেন, দিনে ছোট ছোট ৬টা মিল খান। দুটি মিলের মধ্যে যেন লম্বা সময়ের ব্যবধান না থাকে।

নিয়ম মেনে খান

একদিন বেশি খাওয়া হলে পরপর দু’দিন হাল্কা খান। বিয়েবাড়ি বা অনুষ্ঠান বাড়ি থাকলে, অফিস পার্টি বা বন্ধুদের আড্ডায় দেদাড় খাওয়াদাওয়া হলে, এর পরের মিলগুলো বুঝে খান। বেশি প্রোটিন জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভাল।