ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং: ঘড়ি ধরে অল্পসল্প উপোস করে ওজন কমিয়ে ফেলুন, সেলিব্রিটিরা করছেন

গুড হেলথ ডেস্ক

ওজন কমানোর জন্য লো ক্যালরি ডায়েট (Diet) মেনে চলতে হবে। এই মিথের পিছনে আমরা সকলেই ছুটি। কিন্তু লো ক্যালরি ডায়েট ঠিক কাকে বলে? ঠিক কতটা ক্যালরি আমাদের প্রয়োজন প্রতি দিন? তা হলে জেনে রাখুন এর কোনও নির্দিষ্ট হিসেব নেই। বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে দৈনন্দিন ক্যালরির পরিমাণ। রোজ আমরা কী খাচ্ছি, কতটা খাচ্ছি, সেই খাবার থেকে শরীরে কতটা পুষ্টি উপাদান যাচ্ছে আর কতটা খারাপ জিনিস ঢুকছে, তার সঠিক পরিমাণ বের করে সুষম খাবারের তালিকা তৈরি করার নামই ডায়েট। তবে এখনকার সময়ে অনেক রকম ডায়েট রয়েছে। তার কিছু আবার বেশ অন্যরকম। তার মধ্যেই একটি হল ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Intermittent fasting)। সেলিব্রিটিরা এই ডায়েট করেই নাকি হুহু করে ওজন কমাচ্ছেন।

টেসলা কর্তা ইলন মাস্ক থেকে ভারতের স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান ভারতী সিং, অভিনেত্রী-সাংসদ স্মৃতি ইরানি এরা আচমকাই অনেকটা ওজন একবারে কমিয়ে ফেলেছেন। শোনা গেছে, এঁরা নাকি কঠোরভাবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Intermittent fasting) মেনে ওজন ঝরিয়েছেন। তবে এই তালিকায় আরও অনেক বলিউড ও হলিউড সেলিব্রিটিরা রয়েছেন যাঁরা নাকি উপোস করে ওজন কমাচ্ছেন।

 Intermittent Fasting

তবে চিন্তার কারণ নেই, দিনভর উপোসের প্রয়োজন নেই। অল্পসল্প উপোস আর পুষ্টিকর খাবার ঘড়ি ধরে খেয়ে ওজন কমানোর নামই হল ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং। ১৬ ঘণ্টা উপোস থেকে বাকি সময় পেট ভরে খাওয়াই এই ফাস্টিং-এর মূল কথা। অর্থাৎ ক্যালরি ইনটেক করো এবং মাঝে লম্বা সময়ের একটা বিরতি নিয়ে সেই ক্যালোরি ঝরিয়েও ফেলো।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Intermittent fasting) কী?

দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে যা যা খাবার শরীরের জন্য প্রয়োজন, তা খেয়ে নিতে হবে। আর বাকি সময়টা অর্থাৎ, ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা উপোস করে কাটাতে হবে। ধরুন আপনি সকাল ৮টায় খুব ভারী ব্রেকফাস্ট করলেন। তারপর আবার সেই বিকেল ৪টেয় দুপুরের খাবার খেলেন। এই পুরোটা সময় অন্য কোনও খাবার খাওয়া যাবে না। এভাবেই দিনে একটানা অনেকক্ষণ উপোস করা হয় এই পদ্ধতিতে।

তবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করার ভাল সময় হল ডিনারের পরে। রাতে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে বাকি সময়টা উপোস দিন। ফলে, ঘুমনোর সময়েই ৭-৮ ঘণ্টা এমনিতেই গ্যাপ হয়ে যাবে। আর সকালে সময় মতো খেলেই হল।

 intermittent fasting

উপোস করে ওজন কমানোর সুবিধা

অনেকগুলো উপকারিতা আছে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের (Intermittent fasting)। প্রথমত, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, দ্বিতীয়ত নির্দিষ্ট সময়ের বিরতি নেওয়ায় পাকস্থলীও খাবার হজম করার সময় পায়। বিপাকহার ঠিক থাকে। কোলেস্টেরল কমে এবং শরীরও ভাল থাকে। এই ধরনের ডায়েট করলে ক্যালোরিও কম ঢোকে শরীরে।

অসুবিধা কী কী

এই ডায়েটের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি বড় সমস্যা। নিয়মিত খাদ্যাভাসে বদল আনলে কম-বেশি সকলেই এই সমস্যা হতে পারে। এই ডায়েটের ক্ষেত্রে যেহেতু বাঁধাধরা সময়ের মধ্যে খাওয়াদাওয়া শেষ করতে হয়, তাই শরীরে পুষ্টির অভাব হতে পারে। বিশেষ করে জলের ঘাটতি হয়। এ ছাড়াও শরীরে প্রয়োজনীয় মাত্রায় ফাইবার পৌঁছয় না। তাই ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট করতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করাই ভাল। নিজে থেকে এই ডায়েট করতে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

 Intermittent Fasting

ইন্টারমিটেন্ট ডায়েটের নিয়ম কী?

এই পদ্ধতিতে ব্রেকফাস্ট স্কিপ করা যায়। এ ক্ষেত্রে টানা ষোলো ঘণ্টা উপোস থাকতে হবে। তার পরের আট ঘণ্টা আবার খেতে পারবেন। তবে জাঙ্ক ফুড নয়।

 ২৪ ঘণ্টা ফাস্টিং কিংবা ৫:২ অর্থাৎ গোটা সপ্তাহকে পাঁচ এবং দু’দিনে ভাগ করে নিয়ে এই ফাস্টিং করতে পারেন।

ফাইবারে ভরপুর ফল ও শাকসব্জি রাখুন খাদ্যতালিকায়। ব্রকোলি, আলু, আমন্ড বাদাম, পপকর্ন, গোটাশস্য বেশি করে খান। পারলে ডায়েট চার্ট তৈরি করুন। কখন কী খাবেন, কতটা খাবেন, তা লিখে রাখুন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন খেতে হবে। ওজন কমানোর চেষ্টায় থাকলে কার্বোহাইড্রেট সামান্য কম করা যেতে পারে।

ফাস্টিংয়ের পরে বেশি খেয়ে ফেললে চলবে না। অঙ্কুরিত ছোলা, চিকেন, অল্প তেলে রান্না মাছ, স্যালাড, সবজির তরকারি, ডিম খেতে পারবেন। ব্রাউন রাইস খেলে বেশি ভাল হয়।

একবারেই ১২ ঘণ্টা গ্যাপ দেবেন না। ধীরে ধীরে ৫-৬ ঘণ্টা থেকে বাড়াতে পারেন। তবে খাবার যেন সুষম হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

এ ধরনের ফাস্টিংয়ে অ্যাসিড হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শরীরে অ্যালকালাইন ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। সে জন্যই বেশি আনাজপাতি রাখতে হবে ডায়েটে।