যারা কম ঘুমোয় তারা বেশি খিটখিটে, স্বার্থপর হয়! অনিদ্রায় বাড়ে অবসাদ

গুড হেলথ ডেস্ক

‘ঘুম কেন নেই তোরি চোখে? কে রে এমন জাগায় তোকে…’ এখনকার সময়ে কমবয়সীদের চোখ থেকে ঘুম প্রায় উধাও হয়ে গেছে (Lack of Sleep)। শরীর ক্লান্ত থাকলেও মস্তিষ্ক সব সময় সজাগ। রাতভর জেগে মোবাইলে গেম না হলে ল্যাপটপে সিনেমা, অফিসের কাজ। কানে হেডফোন গুঁজে হাই ভলিয়্যুমে গান শোনা। এখনকার লাইফস্টাইলে একটানা নিশ্ছিদ্র ঘুম দু’চোখ থেকে যেন গায়েব হয়ে গেছে। আর এই কম ঘুমনোর কারণেই নানাবিধ সমস্যা এসে হাজির হচ্ছে। মেজাজ খিটখিটে হচ্ছে, ঘন ঘন মুড সুইং, অ্যাংজাইটি, এমনকি অবসাদও হানা দিচ্ছে কম বয়সেই।

ঘুমের সমস্যার দুটো দিক এখনকার সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে সবচেয়ে বেশি চর্চিত—এক, রাত জাগা ও দেরি করে ওঠার অভ্যাস, দুই, স্লিপিং ডেপ্রিভেশন বা ঘুম আসতে না চাওয়া, ঘুমের ঘাটতি ইত্যাদি (Lack of Sleep)। ক্যালফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বলছেন, যারা কম ঘুমোয় তারা বেশি স্বার্থপর, হিংসুটে হয়। তাদেরই বেশি মুড ডিসঅর্ডারের সমস্যা দেখা দেয়। অবসাদও হানা দিতে পারে যে কোনও সময়।

Having Trouble Falling Asleep

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির দুই বিজ্ঞানী এটি বেন সিমন ও ম্যাথিউ ওয়াকার বলছেন, ২০ বছর ধরে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে, মনের অবস্থার সঙ্গে ঘুমের (Lack of Sleep) সরাসরি যোগসূত্র আছে। ঘুমের ঘাটতি হলে বা ইনসমনিয়া থাকলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। দেখা গেছে, যাঁরা কম ঘুমোন তাঁরা মেলামেশা করতে বেশি পছন্দ করেন না, নিজেকে গুটিয়ে রাখেন সবসময়। তাঁদের ব্যবহারেও নানা বদল আসে। অন্যের সঙ্গে কথা বলার ধরন, আচার-আচরণ অনেক বেশি রুক্ষ হয়। মেজাজ বদলে যায় মাঝে মাঝেই। স্বার্থপর মানসিকতা দেখা যায়। এঁরা একাকীত্বে বেশি ভোগেন। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকায় শরীরেও তার প্রভাব পড়ে নানাভাবে।

 Sleep Deprivation

গবেষকরা বলছেন, আসলে আমাদের শরীরে একটা ঘড়ি আছে, যা নিয়ম মেনে চলে। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যাওয়া, ভোরে ঘুম থেকে ওঠা। এই নিয়মটার ব্যতিক্রম হলেই ঘুমের সমস্যা শুরু হয়, তার থেকেই অনিদ্রা, স্লিপিং ডিসঅর্ডার নানা রোগ ধরে যায়।

কম ঘুম বা অনিদ্রা থেকে রেহাই পেতে কিছু নিয়ম মানতেই হবে–

বাড়িতে থাকলে অনেক সময়েই দুপুরে খেয়ে ওঠার পর চোখ লেগে আসতেই পারে (Lack of Sleep)। কিন্তু সচেতন ভাবে এই দিবানিদ্রা এড়িয়ে চলুন।

ঘুমের অন্তত ঘণ্টা দুই আগে মোবাইল, ল্যাপটপ ও যে কোনও রকম ইলেকট্রনিক গ্যাজেট দূরে রাখুন।

ঘরের পরিবেশও যে ঘুমনোর জন্য আদর্শ হয়। বেডরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন, পরিষ্কার বেড কভার ব্যবহার করুন। হাল্কা আলো জ্বালিয়ে রাখতে পারেন।

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় টাইপ ২ ডায়াবেটিস, কী কী লক্ষণ দেখে টেস্ট করাবেন

 Lack of Sleep

বাড়তি স্ট্রেসের কারণে যদি অনিদ্রায় ভুগতে শুরু করেন, তা হলে আপনার প্রথম কাজই হবে মানসিক চাপ কমানো। সব চিন্তাভাবনা ছেড়ে ঘুমোতে যান।

ঘুমনোর আগে চা-কফি খাবেন না।

মন শান্ত রেখে প্রাণায়াম বা যোগব্যায়ামে খুব দ্রুত কাজ হয়। রাতের খাওয়া আর ঘুমের মধ্যে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টার বিরতি থাকতে হবে। এই সময় হাঁটাহাঁটি করলে খাবার হজম হয় দ্রুত। পাকস্থলী শান্ত থাকে, অম্বলের বাড়বাড়ন্ত হয় না। ঘুমও হয় সুন্দর, শরীরে চাহিদা মাফিক।

মেডিটেশন ঘুমের জন্য আদর্শ দাওয়াই। চোখ বন্ধ করে সংখ্যা গুনতে পারেন কাজ দেবে। ঘরের আলো নিভিয়ে বা হাল্কা আলো জ্বালিয়ে মেডিটেশন করুন, ফল পাবেন।