মাঙ্কিপক্সে বিগড়ে যাচ্ছে হার্টের ছন্দ? হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে দাবি

গুড হেলথ ডেস্ক

মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণে (Monkeypox) কি হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ছে? আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির গবেষকরা বলছেন, কোভিডের মতো মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণেও হার্টের প্রদাহ হচ্ছে। কয়েকজন রোগীর এমন উপসর্গ দেখা গেছে। হৃদপেশিতে প্রদাহ, মায়োকার্ডিটিসের লক্ষণও দেখা গেছে।

হার্ট মাসল বা হৃদপেশিতে প্রদাহ হলে তাকে বলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়, হৃদগতির ছন্দ বিগড়ে যায়। বাড়াবাড়ি হলে ধমনীর মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে ব্লক হয়ে যায়। তখন বুকে ব্যথা অনুভব করে রোগী। করোনা রোগীদের মধ্যে এমন উপসর্গ আগে দেখা গেছে। হঠাৎ করেই বুকে অসহ্য ব্যথা, সেই সঙ্গে ঘাম আর শরীরে নানাবিধ অস্বস্তি, এই উপসর্গগুলোই জানান দেয় হার্ট অ্যাটাকের শঙ্কা রয়েছে। মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণে হার্টের রোগের ঝুঁকি আছে কিনা তা গবেষণা করে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

মাঙ্কিপক্সের (Monkeypox) সংক্রমণ হলে  লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাবে। সারা গায়ে চাকা চাকা র‍্যাশ বের হবে। সেই সঙ্গেই কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে। এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২-৩ দিন। সংক্রমণ ছড়ানোর তিন দিনের মাথায় ধূম জ্বর আসবে রোগীর। মানুষের শরীরে বা কোনও সারফেসে এই ভাইরাস ২১ দিন অবধি বেঁচে থাকতে পারে।

ভারতেও মাঙ্কিপক্সের (Monkeypox) সংক্রমণ বাড়ছে। আইসিএমআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (আইসিএমআর-এনআইভি) মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের বিন্যাস বের করেছে। তাতে দেখা গেছে ভারতে মাঙ্কিপক্সের (Monkeypox) যে প্রজাতি খুঁজে পাওয়া গেছে তা অনেকটাই আলাদা। 

বেশিরভাগেরই শরীরে খুঁজে পাওয়া গেছে সংক্রামক বি১ (B1) স্ট্রেন। আবার ইউরোপ ও আমেরিকায় খুঁজে পাওয়া গেছে মাঙ্কিপক্সের এ২ (A2) স্ট্রেন। এই A2 স্ট্রেন অতি সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কফ-থুতু-লালারস ও দেহরসের মাধ্য়মে ছড়াতে পারে ভাইরাস। বিশেষ করে আক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গম করলে বা আক্রান্তের চুম্বন-স্পর্শ থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা আছে।