মুখের ঘা, আলসার ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠতে পারে, কীভাবে সাবধান থাকবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

মাঝেমধ্যেই মুখে ঘা হচ্ছে? জিভে জ্বালাপোড়া ব্যথা?  অনেক সময়ই মুখের ভেতর হওয়া কোনও ঘা (Oral Thrush) আমাদের অনেকদিন ভোগায়। ঘরোয়া টোটকা বা ওষুধ খাওয়ার পরও যদি এমন ঘা না সারে, তবে সাবধান হোন। জিভের নীচে কিংবা গালে ঘা হলে খাওয়াদাওয়া করতে বা কথা বলার সময়ে প্রবল সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এ রকম সমস্যাই হল মুখে আলসারের লক্ষণ। এই আলসার (mouth ulcer) দীর্ঘসময় ভোগালে তা ক্যানসার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

mouth ulcer

কখন সাবধান হতে হবে?

সাধারণত পেটের অসুখ, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণে মুখে ঘা হতে পারে (mouth ulcer) । ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি-এর অভাবে মুখে জ্বালাপোড়া ঘা হতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যের অভাবের কারণেও মুখে ঘা হতে পারে। এ রকম কোনও সমস্যা দেখা দিলে ক’দিনের জন্য ঝাল, টক জাতীয় খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। মুখ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। পর্যাপ্ত জল খেতে হবে।

কখন বুঝবেন ডাক্তার দেখাতে হবে? ৬ মাস থেকে ১ বছর ঘা না সারলে সাবধান হতে হবে।

ওষুধ খাওয়ার পরে সেরে গেলেও ফের একই জায়গায় ঘা হচ্ছে।

ক্ষত ক্রমে বেড়ে চলেছে, মুখে-জিভে ছড়িয়ে পড়ছে।

ঘা-ক্ষত থেকে রক্ত বের হচ্ছে।

জ্বালাযন্ত্রণা বাড়ছে।

Oral Cancer Symptoms

বেশিরভাগ সময়ই থাকে জর্দা, পানমশালা, পান, সুপারি ইত্যাদি তামাকজাতীয় জিনিস থেকে মুখে ঘা হয়। দাঁতের খোঁচা থেকেও ঘা হতে পারে। দাঁতের সুচালো অংশটি বারবার গালে লেগে ঘা তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় এর ট্রিটমেন্ট না হলেই বিপদ বাড়ে।

ঘা-এর জায়গা থেকে কিছুটা কোষ নিয়ে স্ক্র্যাপ সাইটোলজি টেস্ট করে ক্যানসার (mouth ulcer) আছে কিনা দেখে নেন ডাক্তারবাবুরা। নিশ্চিত হয়ে বায়োপসি ও সিটি স্ক্যান করা হয়।

কীভাবে সাবধান থাকবেন?

গরম জলে ত্রিফলা মিশিয়ে মুখ ধুলে আলসারে অনেক আরাম হয়।

ঈষদুষ্ণ জলে সামান্য নুন মিশিয়ে কুলকুচি করুন। এতে আরাম পাবেন।

গা-এর জায়গায় নারকেল তেল বা মধু লাগিয়ে রাখলেও উপকার হয়।

বেকিং সোডা ঘা সারাতে দারুণ উপকারি। এক কাপ জলে এক চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে কুলকুচি করলে ঘা কমে যাবে।

যদি বায়োপসি করে ক্যানসার ধরা পড়ে তাহলে রেডিয়েশন থেরাপি শুরু করে দেন ডাক্তারবাবুরা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে তার নিরাময় হতে পারে।