মলদ্বারে নানা সমস্যা! পাইলস্, ফিশার ও ফিসচুলার তফাত জানুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বাথরুমে যাওয়ার অভ্যাস মানুষের চিরন্তন। সকাল সকাল ওই কম্মটি না হলে ঠিক স্বস্তি পাওয়া যায় না। অনেকে আবার সারাদিনেই বারবার যান। কিছুটা বাতিকে, কিছুটা প্রয়োজনে। আর কোষ্ঠকাঠিন্য যাঁদের আছে, শুধু তাঁরাই জানেন — ‘‌এ ব্যথা কী যে ব্যথা!‌’‌

পায়খানা পরিষ্কার না হলে শরীরে নানারকম অস্বস্তি তো হয়ই, সঙ্গে এই সমস্যা থেকেই হতে পারে পাইলস্, ফিশারের মতো অসুখ। তবে এই অসুখগুলির তফাত কী, ঠিক কী সমস্যা হয় কোন অসুখে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা অনেকেরই নেই।

পাইলস্ কী?‌

শরীরে থেকে মল বেরিয়ে আসার আগে রেকটাম ও মলদ্বারের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করে। মলত্যাগ করার সময় তা অ্যানাল ক্যানালে চলে যায় ও যথাসময়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। অ্যানাল ক্যানালের দেওয়ালে মিউকো সেল লাইনিং থাকে। আর থাকে কিছু সাপোর্টিং লিগামেন্ট। কোষ্ঠকাঠিন্যে বা অন্য কোনও কারণে বেশি চাপ দিলে ওই লিগামেন্টগুলো ছিঁড়ে যায়। ফলে মলের সঙ্গে রক্ত পড়ে। এই সমস্যাকে বলে পাইলস্ বা অর্শ। পাইলস্-এ তেমন ব্যথা হয় না। তাই একে চিনতে গেলে মল পর্যবেক্ষন খুব জরুরি।

ফিশার কী?‌

ফিশার হওয়ার মূল কারণও কোষ্ঠকাঠিন্য। চাপ দিয়ে বা জোর করে মলত্যাগ করার সময়ে মল নির্গমনের মুখটা রেক্টামের নিম্নাংশের প্রান্তরেখা বরাবর ছিঁড়ে যায়। ফলে ওই মুখ থেকে রক্তপাত হয় ও একটা চামড়া বের হয়ে ঝুলতে থাকে। একে বলে ফিশার। ফিশারের ক্ষেত্রে মলত্যাগ করতে গেলে প্রচন্ড যন্ত্রণা হয়।

ফিসচুলা কী?‌

ফিসচুলার অর্থ দু’‌দিক খোলা নালি। ফিসচুলায় অ্যানাল ক্যানালের সঙ্গে মলদ্বারের নিকটবর্তী অংশের একটা সংযোগ তৈরি হয়। অ্যানাল ক্যানাল গ্ল্যান্ডের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে একটা সময় বাইরে গিয়ে ফেটে যায়। বের হয় পুঁজ। এই পুঁজ জমতে থাকলে ভীষণ ব্যথা করে। এরপর পুঁজভর্তি অংশটা ফেটে একটা অ্যাবনর্মাল ট্র‌্যাক তৈরি করে, একেই বলে ফিসচুলা। ফিসচুলায় যন্ত্রণা তো হয়ই। তার সঙ্গে ভীষণ দুর্গন্ধযুক্ত তরল নিঃসৃত হয়।

ওপরের সমস্যাগুলো অনেকেই একে অপরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। তবে এগুলো প্রতিটিই ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা। অনেকেই লজ্জায়, সংকোচে এই সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন না। তবে এই প্রতিটা ক্ষেত্রেই ঠিক সময়ে চিকিৎসা করতে পারলে আরোগ্য মেলে সহজেই।