লালচে গায়ের রঙ, রক্তবর্ণ চোখ, হিমোগ্লোবিন বাড়ছে কিনা দ্রুত পরীক্ষা করান

গুড হেলথ ডেস্ক

লালচে গায়ের রঙ, চোখ গাঢ় রক্তবর্ণ। অথবা মাঝে মাঝেই হাতের তালু, পায়ের পাতা, চোখের রঙ বদলে লালচে ভাব চলে আসে। এমন উপসর্গ যদি মাঝেমধ্যেই দেখা দিতে থাকে তাহলে আর দেরি করা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, ভারতের বেশিরভাগ মহিলাই অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতায় ভোগেন। তবে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেশি এমন রোগীও আছেন, সেটা পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। রক্তে যদি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়তে থাকে তাহলে সেটা মারাত্মক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে পলিসাইথিমিয়া রুবরা ভেরা ( Polycythemia vera)।

যাঁরা অ্যাথলিট বা যাঁরা পাহাড়ি এলাকায় থাকেন তাঁদের রক্তে হিমোগ্লোবিন বেশি থাকে। সাধারণত রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে পুরুষদের ক্ষেত্রে  ১৭.২ গ্রাম ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ১৫.১ গ্রাম। এর উপরে থাকলে এবং হেমাটোক্রিটের মাত্রাও বেশি হলে পলিসাইথেমিয়া রুবরা ভেরা ( Polycythemia vera) নির্ণয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে তা ম্যালিগন্যান্টও হতে পারে।

 polychondritis

পলিসাইথিমিয়া ( Polycythemia vera) কী? 

পলিসাইথেমিয়া রুবরা ভেরা এক ধরনের ব্লাড ডিসঅর্ডার, অনেকক্ষেত্রে ম্যালিগন্যান্টও হয়। যদিও এই সমস্যার মূল লক্ষণ বেশি মাত্রায় হিমোগ্লোবিন, তা হলেও এর ফলে অস্থিমজ্জার মধ্যে হিমাটোপয়েসিস প্রক্রিয়াটি বহু গুণ বেড়ে যায়। হেমাটোপয়েসিস হল মানুষের শরীরে বিভিন্ন রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়া। জেনেটিক মিউটেশনের কারণেও এমন রক্তের রোগ হতে পারে।

বয়স ৩০ পার হলে মেয়েদের যে মেডিক্যাল টেস্টগুলো অবশ্যই করিয়ে নিতে হবে

Polycythemia Vera

কাদের হতে পারে, লক্ষণ কী কী?

সায়ানোটিক হার্ট ডিজিজ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া ইত্যাদি অসুখে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়৷ তখন রক্ত বেশি পরিমাণে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে। শ্বাসতন্ত্রের কোনও ক্রনিক রোগ থাকলেও এমনটা হতে পারে।

মাথা ধরে থাকা, দপদপ করা, কান ভোঁ ভোঁ করা, মুখ লাল হয়ে থাকা, রক্তচাপ আচমকা বেড়ে গেলে সতর্ক হতে হবে। তাছাড়া পলিসাইথেমিয়া ( Polycythemia vera) থাকলে লিভার ও স্প্লিন বেড়ে যেতে পারে। , ক্লান্তি, মাথাঘোরা, পেটে ব্যথা থাকে অনেকের৷ নাক, পাকস্থলি বা অন্ত্রে রক্তপাত হয় কিছু ক্ষেত্রে৷ ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গাউট হতে পারে।  রক্ত জমাট বেঁধে থ্রম্বোসিস হতে পারে। লাল রক্তকণিকা বেশি বেড়ে গেলে পেটে আলসার হতে পারে।

Polycythemia vera
চিকিৎসা কী?

রোগীর বয়স যদি অল্প হয় এবং হিমোগ্লোবিন যদি বেশি থাকে, তা হলে তার ফ্লেবোটেমি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর শরীর থেকে রক্ত বার করে নেওয়া হয়, যতক্ষণ না হেমাটোক্রিট বা পিসিভি ৪৫-এর আশেপাশে হয়।

রক্তকণিকা বাড়তে থাকলে শিরা এবং ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে বন্ধ হয়ে যায়, থ্রম্বোসিস হয়। রক্ত জমাট বাঁধা আটকানোর জন্য তাই অনেক সময়েই অ্যাস্পিরিন ব্যবহার করা হয়।

প্রাইমারি পলিসাইথিমিয়ার মূল চিকিৎসা মাঝেমধ্যে এক–আধ বোতল করে রক্ত বার করে নেওয়া৷ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রথম দিকে ২–৩ দিন বাদে বাদে করতে হয়৷ রক্ত ডেলা বাঁধার আশঙ্কা থাকলে ওরাল কেমোথেরাপির ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। যদি আগে থেকেই হার্টের রোগ, থ্রম্বোসিস, কিডনির অসুখের ইতিহাস থাকে তাহলে নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপে থাকা জরুরি।