Pregnancy: ১৩৫ কেজি ওজনের মহিলা সুস্থ সন্তানের জন্ম দিলেন, বড় সাফল্য রানাঘাট হাসপাতালের

গুড হেলথ ডেস্ক

ওজন ১৩৫ কিলোগ্রাম। স্থূলত্বের সঙ্গেই শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, থাইরয়েড, প্রেসার কিছুই বাদ নেই। কোমর্বিডিটির বাড়বাড়ন্ত শরীরজুড়ে। এর মধ্যেই অন্তস্বত্ত্বা (Pregnancy) হয়েছিলেন সেই মহিলা। গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে নানা জটিলতাও দেখা দিয়েছিল। সেই অবস্থায় এত বেশি ওজনের প্রসূতির প্রসব করানোই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সন্তানও সুস্থ হবে কিনা সে নিয়েও সংশয় ছিল। এই অসম্ভবই সম্ভব করলেন নদিয়ার রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা। সি-সেকশনে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিলেন মহিলা।

প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে রানাঘাট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাহেরপুরের বাসিন্দা মামনি দাস। রবিবার সন্ধেয় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ডাক্তারবাবুরা মহিলার শারীরিক অবস্থা দেখে চমকে গিয়েছিলেন। একেই ওজন ১৩৫ কেজি, তার ওপরে নানানটা রোগ। কীভাবে প্রসব করানো হবে সে নিয়ে চিন্তা বেড়েছিল।

হাসপাতালের সুপারিন্টেডেন্ট কল্যাণ অধিকারী বলছেন, মহিলার রক্তচাপ এতটাই বেশি ছিল যে প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছিল। থাইরয়েড ও ডায়াবেটিসও ধরা পড়েছিল পরীক্ষায়। এত জটিলতা সত্ত্বেও প্রসব করানোর ঝুঁকি নেন ডাক্তারবাবুরা (Pregnancy)। কল্যাণবাবু বলছেন, ৪০ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। কিন্তু পাঁচদিন আগেই ডেলিভারি করানো হয় মহিলার। আড়াই কেজি ওজনের সুস্থ, ফুটফুটে ছেলের জন্ম দিয়েছেন মামনি। মা ও সন্তান দু’জনেই সুস্থ আছে, কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি। ছেলেটিকে এখন রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের এসএনসিইউ-তে রাখা হয়েছে। বাচ্চাটার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানিয়েছেন ডাক্তারবাবুরা।

Hookah: সিগারেটের থেকেও বেশি ক্ষতি হুকায়, কমবয়সীরা সাবধান

ওবেসিটি, প্রেসার-সুগার-থাইরয়েড থাকলে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি বেশি

ওবেসিটি বা স্থূলত্ব থাকলে আগে ওজন কমানোর পরামর্শই দেন ডাক্তারবাবুরা। এর সঙ্গেই যদি থাকে ডায়াবেটিস, তাহলে বিপদ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হবু মায়ের সুগার বেশি থাকলে গর্ভস্থ সন্তানের নানা রকম জন্মগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ তাই চেক আপ না করিয়ে গর্ভবতী (Pregnancy) হতে নিষেধ করেন চিকিৎসকরা। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হতে দেখা যায় অনেক প্রসূতির। এই রোগ সামলে চলতে না পারলে মুশকিল। জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হলে রোজ সকাল–দুপুর ও রাতের খাবার খাওয়ার পর গ্লুকোমিটার যন্ত্রে সুগার মেপে দেখা হয়৷

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, ডায়াবেটিস থাকলে পরীক্ষা করে পরিস্থিতি যাচাই করার পর খাওয়ার ওষুধ বন্ধ করে শুরু হয় ইনসুলিন৷ ফোলিক অ্যাসিড দেওয়া হয়৷ এর পর সব ঠিকঠাক থাকলে গর্ভসঞ্চারের পরামর্শ দেন ডাক্তাররা৷ সুগার লেভেল চড়া থাকলে গর্ভসঞ্চারের (Pregnancy) প্রথম ৪ সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণের সবচেয়ে ক্ষতি হয়৷

সেই সঙ্গেই যদি কারও থাইরয়েড থাকে তাহলে সমস্যা আরও বাড়ে। অতিরিক্ত ওজনও বশে রাখতে হয়। গর্ভাবস্থায় সাধারণত ১০–১২ কিলোগ্রামে মতো ওজন বাড়ে। যদি হবু মায়ের আগে থেকেই ওজন বেশি থাকে তাহলে সামান্য ওজন বৃদ্ধিও মা ও শিশুর জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। তখন ওজন কমানোর দরকার পড়ে। প্রসবের সময় মায়ের ব্লাড সুগার ৯০–১২০ এর মধ্যে থাকা জরুরি৷ না হলে সদ্যোজাতের রক্তে সুগার খুব কমে যেতে পারে৷ জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শ্বাসকষ্টেও ভুগতে পারে শিশু।