যৌনরোগ হতে পারে বন্ধ্যত্বের কারণ, কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

যৌনরোগ ((Sexually transmitted disease/STD) নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে সঙ্কোচ করেন অনেকেই। ফলে রোগ তলে তলে বাড়তে থাকে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে বড়সড় ঝুঁকির কারণ হয়ে ওঠে। এমনকি বন্ধ্যত্বের আশঙ্কাও বাড়ে।

এসটিডি বা সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (Sexually transmitted disease) বা যৌনরোগ মানে শুধু এইচআইভি বা এইডস নয়। এই তালিকায় রয়েছে গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া, সিফিলিসের মতো আরও অনেক রোগ যা অসুরক্ষিত যৌন সংসর্গ থেকে ছড়ায়। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না হলে এ সব সংক্রমণ মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এইডস নিয়ে যতটা সচেতনতার প্রচার হয়, এইসব যৌনরোগ নিয়ে ততটা খোলামেলা আলোচনা হয় না। অথচ সতর্কতা সবক্ষেত্রেই জরুরি।

যৌনজীবন সুরক্ষিত রাখুন, কী কী খেয়াল রাখতে হবে

১) যে কোনও ধরনের এসটিডি (Sexually transmitted disease) এড়াতে হলে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কে জড়ালে চলবে না। বহুগামিতা ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

২) ওরাল, ভ্যাজাইনাল বা অ্যানাল, যে কোনওভাবেই যৌনরোগ ছড়াতে পারে। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় কন্ডোম ব্যবহার করতেই হবে।

৩) অজান্তেই যৌনরোগ শরীরে বাসা বাঁধছে কিনা জানার জন্য নিয়মিত নিজের ও পার্টনারের চেকআপ করান। প্রাথমিক অবস্থায় সংক্রমণ ধরা পড়সলে তা অ্যান্টিবায়োটিকেই সেরে যায়। অতিরিক্ত ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ, যৌনাঙ্গে আলসার, বাথরুমে যাওয়ার সময় বা ইন্টারকোর্সের সময় ব্যথা, এ সবই যৌনরোগের সাধারণ লক্ষণ।

৪) গাইনোকোলজিস্টের কাছে রুটিন চেকআপ দরকারি। যৌনাঙ্গের সামান্য সমস্যাও এড়িয়ে যাওযা ঠিক নয়। মহিলাদের সময় করে এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) ভ্যাকসিন নেওয়াটা জরুরি। সাধারণত দেখা যায়, মহিলাদের যদি একাধিক পুরুষসঙ্গী থাকে, অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবনে অভ্যস্ত হন তাহলে এই ভাইরাস থেকে সংক্রমণ ছড়ায়।

STD

৫) কিছু যৌনরোগ চিকিৎসায় কমে গেলেও এমন অনেক রোগ আছে যা ধরা না পড়লে বা চিকিৎসা না হলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। যেমন ক্ল্যামাইডিয়ার চিকিৎসা না হলে তা থেকে প্রচণ্ড পেটে ব্যথা হতে পারে এবং মেয়েদের বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে।

৬) সংক্রমণ আছে কিনা জানতে কী কী পরীক্ষা করানো জরুরি– ক্ল্যামাইডিয়া, গনোরিয়া, এইচআইভি, সিফিলিস, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, হেপাটাইটিস এ, হারপিস টাইপ ১, হারপিস টাইপ ২, এইচআইভি টাইপ ১ এবং টাইপ ২।

৭) হার্পিসে সাধারণত যৌনাঙ্গের চারপাশে চুলকানি, ফোলাভাব এবং ব্যথা দেখা যায়। যৌন সংযোগে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ সম্পূর্ণ ভাবে সারানো না গেলেও চিকিৎসায় রোগের উপসর্গগুলি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।  এই রোগের ফেল ছেলেদের শুক্রাণু কমে যেতে পারে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে সন্তানের জন্মের সময়ে এই রোগ সন্তানের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।