Stroke: স্ট্রোক হতে পারে কি? আগে থেকে জানান দেয় শরীর, কী কী লক্ষণ চিনবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে হঠাৎ স্ট্রোক (Stroke) একটি গুরুতর সমস্যা। প্রতি ছয় জন মানুষের মধ্যে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পর্যাপ্ত জনসচেতনতার অভাবে অনেকে স্ট্রোককে শুধুমাত্র হার্টের অসুখ মনে করেন, তবে স্ট্রোকের কারণ অন্যও হতে পারে। কোনও কারণে যদি মস্তিস্কের কোষে রক্তসঞ্চালন বাধাগ্রস্থ হয় বা রক্তনালী ছিঁড়ে যায় তখন স্ট্রোক হাওয়ার ঝুঁকি অনেকখানি বাড়ে। সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা সবচাইতে বেশি। তবে ইদানিংকালে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অনেককে স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোক উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ, বিশৃঙ্খল, ব্যস্ত ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

Stroke

স্ট্রোক (Stroke) সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে
১) মাইল্ড স্ট্রোক
২) ইস্কেমিক স্ট্রোক
৩) হেমোরেজিক স্ট্রোক

মাইল্ড স্ট্রোকে (Stroke) রোগীর মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ সাময়িক বন্ধ হয়ে আবারও চালু হয়। এই ধরণের স্ট্রোকে শরীরের খুব বেশী ক্ষতি না হলেও বড় ধরনের স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।

ইস্কেমিক স্ট্রোকে মস্তিষ্ক ও শরীরের কোনও অঞ্চলের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধে।

Heart Attack: কমবয়সে কেন বাড়ছে হার্টের রোগ? ঠিক কোন বয়স থেকে চেকআপ করানো জরুরি

About Stroke

হেমোরেজিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তপাত শুরু হয়। এই ধরণের স্ট্রোকে মস্তিষ্ক ও শরীরের কতটা ক্ষতি হবে, তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোথায় হ্যামারেজ ঘটেছে, কতখানি জায়গা জুড়ে হয়েছে ও কত সময় পর চিকিৎসা শুরু হয়েছে তার ওপর।

সচেতনতাই দাওয়াই, লাইফস্টাইল মডিফিকেশন দরকার
প্রথমেই জানতে হবে কাদের আক্রান্ত (Stroke) হবার সম্ভাবনা বেশি। যাঁদের স্থূলতা বা ওবেসিটির সমস্যা রয়েছে, পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপও রয়েছে, তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।
● ওবেসিটির সমস্যা থাকলে প্রথমেই ওজন কমানোর বিষয়ে নজর দিতে হবে।
● সুষম খাবার খেতে হবে। রোজকার ডায়েটে রাখতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি ও ফল।

● দিনে অন্তত কুড়ি থেকে ত্রিশ মিনিট শরীরচর্চা করতেই হবে।
● ডায়াবেটিস বা রক্তচাপের সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
● ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করতে হবে।
● প্রচন্ড কাজের চাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি।

যদি কখনও আচমকা অজ্ঞান হয়ে পড়েন কিংবা শরীরের কোন অংশ অবশ লাগে, চোখে দেখতে বা কথা বলতে অসুবিধে হয় অথবা ঢোক গিলতে কষ্ট হয়, তাহলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। বাড়িতে বসে অযথা সময় নষ্ট করবেন না।