Summer Health Tips: গরমে নিজেকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

সঞ্চিতা চট্টোপাধ্যায়

অন্যান্য মরসুমের মতই গ্রীষ্মকাল তার নিজস্ব পুষ্টি প্রয়োজনের দাবি রাখে (Summer Health Tips)। এই সময়কার খাবার একদিকে এনার্জি বুস্টার হতে হবে অন্যদিকে পাচনতন্ত্রের উপর কম চাপ দেবে এমন অর্থাৎ সহজপাচ্য হতে হবে। গ্রীষ্মের স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি মাথা ধরা, বমি ভাবের মত সাধারণ উপসর্গ থেকে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন ও Sanchita Chatterjeeকনস্টিপেশন প্রভৃতিও হতে পারে। সুস্বাস্থ্য ও এনার্জি লেভেল বজায় রাখতে নিচের কয়েকটি বিষয় মেনে চলুন।

১) মানবদেহের শতকরা ৭০ ভাগ জল তাই শরীরে জল পর্যাপ্ত পরিমাণে জল আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ গ্লাস জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। জল শরীরের সমস্ত মেটাবলিক প্রসেসকে চালিত করে। অস্থিসন্ধির আদ্রতা বজায় রাখে। খাবার পরিপাকে এনজাইমের সক্রিয়তায় জল অপরিহার্য। বাইরে বেরোলে জলের বোতল সঙ্গে রাখুন, অফিসে মাটির কুঁজোয় খাবার জল রাখার ব্যবস্থা করুন। গ্রীষ্মে মেটাবলিক রেট ধরে রাখতে, মাসল ক্র্যাম্প এড়াতে, সুস্থ ও চনমনে থাকতে পর্যাপ্ত জল খেতেই হবে এর কোনও বিকল্প নেই।

২) মৌসুমী ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি ও ফল বেশি করে খান. যেসব ফলে জলের ভাগ বেশি আছে যেমন তরমুজ, খরমুজ, শসা, তালশাঁস, আঙুর, ফলসা ডাবের জল, লেবু ইত্যাদি খান ।
গ্রীষ্মে যে সবজি গুলি খাওয়া ভাল তা হল লাউ, কুমড়ো, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, চাল, কুমড়ো, পেঁয়াজ প্রভৃতি।

 Summer

৩) হালকা ও সহজপাচ্য খাবার পরিমিত পরিমাণে খান। । মেনু যথাসম্ভব সিম্পল এবং ছোট রাখুন একসাথে অনেক রকমের খাবার খেলে না চাইলেও ওভার ইটিং হবার সম্ভাবনা থেকেই যায়, তাই গ্রীষ্মে দুইটি থেকে তিনটি পদ সম্ভব হলে ওয়ান ডিশ মিল সাথে গ্রিন চাটনি, আচার বা রায়তার মত অ্যাকম্পানিমেন্ট রাখুন।
অতিরিক্ত তেল ও মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলো খেলে হজমের গোলমাল দেখা দিতে পারে।

 Summer

৪) গ্রীষ্মে তেষ্টা মেটানোর জন্য চিল্ড কোলড্রিংস অনেকেই খান। এটি আসলে শরীরকে ডিহাইড্রেট করে দেয় তাই কোল্ড্রিংসের পরিবর্তে ফ্রেশ ফ্রুট জুস খান (Summer Health Tips)। বাড়িতে বানানো বেলের পানা, আম পোড়ার শরবত, লেবুর জল, লস্যি, ছাঁচ, ঘোল, ডাবের জল, মৌরি ভেজানো জল, লেবুর জল,  মেথি জল ইত্যাদি খান। এগুলি গ্রীষ্মের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অনবদ্য।

৫)  ঘরে এসেই ফ্রিজের জল খাওয়ার অভ্যাস অনেকের আছে, এতে আপনার গলা চোখ হতে পারে এবং হজমের সমস্যা হতে পারে । মাটির কুঁজোয় খাবার জল রাখুন, ঠান্ডা ও স্বাস্থ্যকর পানীয়।

৬) চা ও কফি এমনিতেই শরীরের ডিহাইড্রেশন তৈরি করে। প্রচণ্ড গরমে সেই ডিহাইড্রেশনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। দিনে দু’বারের বেশি চা অথবা কফি খাওয়া উচিত নয়। গরম কোনও পানীয় খেতে ইচ্ছা হলে আদা, লবঙ্গ, তুলসী, দারচিনি, প্রভৃতি ফুঁটিয়ে চা অথবা গরম হলদি দুধ খেতে পারেন। এতে কোনও রকম ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে না শরীরে ও জলের জোগান হবে।

৭) লেট নাইট করবেন না। রাতে ভাল মানের পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সুস্থ রাখতে অপরিহার্য। প্রয়োজনে দিনের বেলায় অল্প রেস্ট নিন।

good health

৮) নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। আপনার মেটাবলিক রেট ঠিক রাখতে। ইমিউনিটি বজায় রাখতে। বোন ডেনসিটি ঠিক রাখতে হজম শক্তি বাড়াতে, মন ঠিক রাখতে, এনার্জি লেভেল ঠিক রাখতে এক্সারসাইজ অপরিহার্য। সারাদিন সক্রিয় থাকুন।

৯) হোটেল ও রেস্টুরেন্টের খাবার এড়িয়ে চলুন। আল্ট্রা প্রসেসড সুপার রিফাইন্ড খাবার গুলি যতটা সম্ভব কম খাবেন। বাড়ির কিচেনকে যতটা সম্ভব ব্যবহার করুন।

১০) ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিছন্নতা বজায় রাখুন।
এইভাবে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পরিবর্তন করে নিলে আমরা সতেজ চনমনে ও সুস্থ থাকব।

(লেখিকা কলকাতার বিসি রায় হাসপাতালের প্রাক্তন পুষ্টিবিদ, মতামত তাঁর নিজস্ব)