শীতে রোজ স্নান করা জরুরি, তবে মানতে হবে এইসব নিয়ম

গুড হেলথ ডেস্ক

সন্ধে ঘনালেই হিমেল হাওয়া আর হাওয়ায় শুষ্ক ভাব আসন্ন শীতের জানান দিচ্ছে। এই সময় সুস্থ থাকতে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। একটু সতর্ক হলেই হঠাৎ ঠান্ডা লাগা, টনসিলের সংক্রমণ, হাঁচি-কাশির মতো শীতের স্বাভাবিক রোগভোগের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের সময়েও রোজ স্নান করা জরুরি। শীতকাল এলেই আর লেপ-কম্বল থেকে বেরতে ইচ্ছে করে না। স্নান (Winter Bath) করতে গেলেই যেন আতঙ্ক। অনেককেই বলতে শুনবেন, শীত এলেই নাকি তাঁরা রোজ স্নান করা বন্ধ করে দেন। সপ্তাহে এক-দু দিনেই সে পালা মেটান। তবে বিশেষজ্ঞরা শীতে রোজ স্নানের ব্যাপারে বিশেষ জোর দিচ্ছেন। কেন? চলুন জেনে নিই।

● শীতে আবহাওয়া এমনিতেই রুক্ষ, শুষ্ক থাকে। শরীরেও সেই রুক্ষতা টের পাওয়া যায় (Winter Bath)। এর ওপর যদি এই ঠান্ডায় কেউ স্নান অনিয়মিত করেন বা জল কম খান, তখন শরীর আরও শুকিয়ে যায়। তা থেকে শুরু হয় নানা গোলযোগ।

● শীতে শুস্কতার কারণে নানারকম ত্বকের সংক্রমণ দেখা যায়। একজিমা, চুলকানির প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই রোজ স্নান করে ত্বককে আর্দ্র রাখা জরুরি।

Shower: Benefits

● এ সময় আমরা শীতপোশাক ব্যবহার করি। কেউ কেউ আবার একটু বেশিই চাপিয়ে ফেলেন গায়ে। এতে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই দেহের ভেতরের উষ্ণতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য রোজ স্নান করাটা দরকার।

● শীত মানেই বাজার জুড়ে এক ঝাঁক রঙিন সবজি। এসবের লোভ সামলানো বড় কঠিন।  খাওয়ার বহর শরীরের যুৎসই না হলেই সে বেঁকে বসতে পারে। তাই এ সময় পেট গরমও বাড়ে অন্য সময়ের তুলনায়। রোজ স্নান করলে এ সমস্যা হওয়ার সুযোগ কম।

● শীতে রোজ স্নান অবশ্যই করুন। কিন্তু খেয়াল রাখুন স্নানের জল যেন খুব ঠান্ডা বা খুব গরম না হয়। এতে ত্বক, চুল, শরীরের ক্ষতি। চেষ্টা করুন স্নানের জলের তাপমাত্রা নাতিশীতোষ্ণ রাখতে।

● শীতকালে আমাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক এবং সংবেদনশীল থাকে তাই স্নানের (Winter Bath) সময় লুফা দিয়ে বেশি জোরে ঘষলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে৷ এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। শীতকালে স্নানের সময় বেশি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।

এই সময় বাচ্চাদের দিকেও নজর দিতে হবে। ছোট বাচ্চা বলে স্নান করানো বন্ধ করে দেবেন তা যেন না হয়। গরম জল, গ্লিসারিন সাবান ও কম ক্ষারযুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে স্নান করান শিশুকে। স্নান সেরেই গরম তোয়ালে দিয়ে শরীর ঢেকে রাখুন। শিশু অসুস্থ থাকলে বা শীতকাতুরে হলে গরম জলে তোয়ালে ভিজিয়ে গা মুছিয়ে দিন। হালকা করে মাথা ধুইয়ে দিন। ভিটামিন সি যুক্ত ফল, মরসুমি সব্জি খাওয়ান। কোনও কোনও সব্জিতে অ্যালার্জি থাকলে তা এড়ান, কিন্তু প্রচুর সবুজ শাক-সব্জি রাখুন ডায়েটে। টিফিনে হালকা খাবার খাওয়ান। জল-মুড়ি, চিঁড়ে-দই এ সব দিন। জাঙ্ক ফুড বা তেলমশলার খাবার বাদ দিন ডায়েট থেকে। শিশুর শ্বাসকষ্ট বা ধুলো থেকে আলার্জি হলে রাস্তায় বেরোলে মাস্ক পরান অবশ্যই। বাসে-ট্রেনে কোথাও গেলে মাফলার রাখুন গলায়। প্রয়োজন অনুযায়ী গরম কাপড় পরান।