বাংলাতেও টম্যাটো জ্বরের থাবা, বাচ্চারাই বেশি আক্রান্ত, কী কী লক্ষণ চিনবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

টম্যাটো জ্বরের (Tomato flu) প্রকোপ বাড়ছে বাংলাতেও। শুরুতে শুধু দক্ষিণ ভারতে এই জ্বর থাবা বসিয়েছিল। এখন গোটা দেশেই টম্যাটো ফ্লু-এর সংক্রমণ বাড়ছে। কোভিড, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, স্ক্রাব টাইফাসের সঙ্গে টম্যাটো জ্বরের উপদ্রব বাড়ায় চিন্তায় স্বাস্থ্য দফতর। এই জ্বরে বাচ্চারাই বেশি আক্রান্ত। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। লক্ষণ চিনে সতর্ক হন বাবা-মায়েরা।

জ্বরের  (Fever) প্রকারভেদে এর গুরুত্ব ও চিকিৎসাও বদলে যায়। অনেক সময় জ্বর হলেও কী ধরনের জ্বর তা বুঝতেই কেটে যায় অনেকগুলো দিন। প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করাতেও তাই দেরি হয়ে যায়। কী ধরনের জ্বর তা না বুঝেই সাধারণ জ্বরব্যধির ওষুধ খেয়েই সপ্তাহ খানেক সময় নষ্ট করে ফেলেন রোগী। সে কারণেই বিভিন্ন ধরনের জ্বরের উপসর্গের ফারাকটুকু জেনে রাখা খুবই জরুরি।

ভাইরাল ফিভার

ঘুষঘুষে জ্বর থাকে তিন-চার দিন (Fever)। সর্দি-কাশি হতে পারে, অ্যালার্জির ধাত থাকলে নাক দিয়ে জল পড়বে। মাথা যন্ত্রণা, গায়ে, হাত-পায়ে ব্যথা থাকবে। দুর্বল লাগা, স্বাদে অরুচি এগুলোও ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ। কখনও কখনও সারা শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়। ঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে অসুখ ও দুর্বলতা সারতে এক সপ্তাহ লেগে যায়। মাথায় জলপট্টি দিলে বা প্যারাসিটামল খেলে জ্বর অনেক সময় নেমে যায়। কিন্তু তিনদিনের বেশি জ্বর থাকলে ডাক্তার দেখিয়ে নিতে হবে।

Tomato fever

টম্যাটো ফ্লু

একধরনের ভাইরাল ফিভার (Tomato flu)। এই জ্বর হলে শিশুদের ত্বকে দগদগে লাল র‍্যাশ বেরিয়ে যাচ্ছে। সারা শরীর লালচে হয়ে যাচ্ছে। তাই একে টমেটো জ্বর নামে ডাকা হচ্ছে।

Tomato Fever

উপসর্গ (Tomato flu) কী কী?

এই জ্বরের সঙ্গে চিকুনগুনিয়ার উপসর্গের কিছুটা মিল রয়েছে।

তীব্র জ্বর, গা-ব্যথা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে

ধূম জ্বর আসছে। এরপরেই সারা শরীরে চাকা চাকা লাল র‍্যাশ বের হচ্ছে। ত্বকের রঙ লালচে হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ত্বকে চুলকানি হচ্ছে। শরীরে অস্বস্তি বাড়ছে, ডিহাইড্রেশনে ভুগছে শিশু।

Tomato fever

র‍্যাশ বের হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়ছে। ফুলে উঠছে অস্থিসন্ধিগুলো, সারা গা, হাত-পায়ে ব্যথা, পেশিতে টান ধরছে।

অনেকের খিঁচুনিও হচ্ছে। পেট খারাপ, ঘন ঘন বমি হচ্ছে বাচ্চাদের।

সর্দি-শুকনো কাশি, নাক দিয়ে অনবরত জল পড়া, প্রচণ্ড ক্লান্তি-ঝিমুনি দেখা দিচ্ছে।

জটিলতা বাড়লে স্নায়ু ও হৃদযন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে কিছু কিছু ক্ষেত্রে।

চিকিৎসা কী?

নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতা বজায় রাখলেই নিয়ন্ত্রিত হতে পারে এই রোগের প্রকোপ। উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তারবাবুরা।

বাচ্চাদের গায়ে ফোস্কা বের হলে, খেয়াল রাখতে হবে যেন তারা কোনও ভাবেই ফোস্কাগুলি না চুলকে ফেলে। চুলকালে ক্ষতস্থানে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে।