ব্রেন স্ট্রোকের পরের চার ঘণ্টা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কী করা উচিত

গুড হেলথ ডেস্ক

মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন হলেই স্ট্রোক হয়। কোনও কারণে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর পথ সংকীর্ণ হয়ে বা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তখন অক্সিজেনের অভাবে ব্রেন কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন যে শারীরিক অবস্থা তৈরি হয় তাকে স্ট্রোক বলে। স্ট্রোক হলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে যাওয়ারই পরামর্শ দেন ডাক্তারবাবুরা। স্ট্রোক হওয়ার পরবর্তী চার ঘণ্টা সময়েই সবচেয়ে দামি। এই সময়টাকে বলে ‘গোল্ডেন আওয়ার’। এই সময়তে সঠিক পদক্ষেপ করতে পারলে তবেই রোগীর প্রাণে বাঁচার সম্ভাবনা থাকে।

strokes and tPA

গোল্ডেন আওয়ার কী?

যে সময়ে হাসপাতালে পৌঁছলে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, ইংরেজিতে তাকেই বলা হয় ‘গোল্ডেন আওয়ার।’ এত দিন, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত (ট্রমা) বা হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রেই এই গোল্ডেন আওয়ার-এর বিষয়টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন চিকিৎসকেরা বলছেন, স্ট্রোকের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও গোল্ডেন আওয়ার রয়েছে। আর তা হল প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে এখন প্রতি ছ’জনের মধ্যে এক জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। ২০০০ সালের পর থেকে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বজুড়েই স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস, ন্যূনতম শরীরচর্চাও না করা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপকেই এর জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞেরা। এডস, যক্ষ্মা এবং ম্যালেরিয়া মিলিয়ে পৃথিবীতে যত মানুষ মারা যান, তার চেয়েও স্ট্রোকে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

Stroke

গোল্ডেন আওয়ারে রোগীকে বাঁচাতে কী কী করা হয়?

স্ট্রোকের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তৎপরতা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিউরোলজিস্ট, নিউরো সার্জন, নিউরো সাইক্রিয়াটিস্ট-এর একটা পূর্ণাঙ্গ দল যেমন চাই, তেমনই চাই সমস্ত ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থাও, যাতে রোগী হাসপাতালে আসার পরে একটা মুহূর্তও বৃথা না যায়।

ইস্কিমিক স্ট্রোকে ব্রেনের যে শিরায় রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় সেখানে ব্লক খুলে দেওয়া হয়। সেটা ওষুধ দিয়েও হয়, আবার সার্জারি করেও হয়। ওষুধ দিয়ে যখন ব্লক ছাড়ানো হয় তাকে বলে থ্রম্বোলিসিস আর অস্ত্রোপচারে যেটা হয় তার নাম থ্রম্বেকটমি।

 Stroke

যদি কোনও রোগী সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে এসে পৌঁছয় তাহলে পরীক্ষা করে ওষুধ দিয়ে ট্রিটমেন্ট করা হয়। যদি দেখা যায় ওষুধ দিয়ে কাজ হবে না, তাহলে স্ট্রোকের সবথেকে আধুনিক পদ্ধতি মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমিতে ব্লক ছাড়ানো হয়। এই পদ্ধতিতে সাফল্যের হার খুব বেশি।

মিনি স্ট্রোক বা টিআইএ হলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসা উচিত । তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করলে ভবিষ্যতে বড় রকম দুর্ঘটনা এড়ানো যেতে পারে।

হার্টে রক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তবু কিছু ক্ষণ লড়াইয়ের সুযোগ থাকে। কিন্তু মস্তিষ্ক বেশি ক্ষণ বাঁচতে পারে না। ইস্কিমিক স্ট্রোক হলে প্রতি সেকেন্ডে মস্তিষ্কের ৩২ হাজার কোষের মৃত্যু হতে থাকে। ফলে সময়টা এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে ইদানীং হার্টের অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির মতোই মস্তিষ্কের ধমনীর জমাট বাঁধা রক্তও বের করে দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলেন,‘টাইম ইজ ব্রেন’। চিকিৎসায় দেরি হলে প্যারালিসিস হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। সুতরাং স্ট্রোকের লক্ষণ দেখলেই হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া উচিত।