মহিলারা শরীরচর্চায় আগ্রহ হারিয়েছেন লকডাউনের পর থেকেই! কারণ জানলে অবাক হবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

করোনার এই দু’বছরে লকডাউনের বন্দিদশায় মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্যে (Mental Health) সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। উদ্বেগ-অবসাদ যেমন বেড়েছে, তেমনই শরীরচর্চা নাকি আগ্রহও হারিয়ে ফেলেছে মেয়েরা। এমনটাই দাবি বিংঘামটন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের।

বিজ্ঞানীরা সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, পুরুষদের থেকে মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্যে (Mental Health) অনেক বদল এসেছে করোনার এই দু’বছরে। নিজেকে ফিট রাখা, অ্যাকটিভ থাকা, শরীরের পাশাপাশি মনেরও খেয়াল রাখা–এইসব দিকেই আগ্রহ হারিয়েছেন মহিলারা।  গবেষকরা প্রায় আড়াই হাজার মহিলাকে নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। তাঁদের ৪১ রকম প্রশ্ন করে দেখেছেন, প্রায় প্রত্যেকেরই করোনা পরবর্তী পর্যায়ে খাওয়ার অভ্যাস, ঘুমের সময়, শরীরচর্চার অভ্যাস, অন্যের সঙ্গে কথাবার্তা বলার ধরনে বদল এসেছে।

mental health

বেশিরভাগই বলেছেন, তাঁরা আগে নানা বিষয়ে খুব অ্যাকটিভ থাকতেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন। কিন্তু ইদানীংকালে সেইসবে খামতি হচ্ছে। আলস্য গ্রাস করেছে অনেককেই (Mental Health)। তাছাড়া করোনা সময়ের মানসিক চাপ, দীর্ঘসময় বন্দিদশায় থাকার ট্রমা, উদ্বেগ সব মিলিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের দফারফা হয়েছে।

গবেষণা বলছে, দীর্ঘ লকডাউনের এই পর্যায়ে গার্হস্থ্য হিংসা যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মানসিক অবসাদ। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। সার্চ ইঞ্জিনে এই নিয়ে খোঁজাখুঁজিও হয়েছে। আবার গর্ভপাতের বিষয়ে জানতে চেয়ে অনলাইনে সার্চ করেছেন মহিলারা। অ্যাবরশন পিল নিয়ে সার্চের রেজাল্ট বেশি। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী মহিলারাই সবচেয়ে বেশি অ্যাবরশন পিল নিয়ে সার্চ করেছেন।

Mental health

বাড়িতে কীভাবে গর্ভপাত করানো যায় সেই নিয়ে খোঁজাখুঁজির ঝোঁক বেড়েছে বয়ঃসন্ধির মেয়েদের মধ্যে। গর্ভনিরোধক পিল নিয়েও সার্চ করছেন মহিলারা।

করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন যাঁরা তাঁরা পোস্ট-কোভিড পর্যায়ে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন। ফলে এর থেকেও মনের ওপর চাপ (Mental Health) বেড়েছে। গবেষণা বলছে, অন্তত ৫৫ শতাংশ নিজে থেকেই বলেছেন তাঁরা মানসিক রোগে ভুগছেন। হয় তীব্র অবসাদ, না হলে সোশ্যাল ফোবিয়া। তাছাড়া ভুল বকা, ভুলে যাওয়া, স্লিপিং ডিসঅর্ডার তো রয়েছেই। ৪২ শতাংশের মধ্যে দেখা গিয়েছে প্রচণ্ড উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। মানসিক চাপ এতটাই যে তার থেকে স্লিপিং ডিসঅর্ডার দেখা দিচ্ছে অনেকের মধ্যেই। অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, ইনসমনিয়ার শিকার হচ্ছেন অনেকে।

women in stress

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাধা পার করতে গেলে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে হবে। তবে এই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার বাধা পার হতে হবে। শরীরচর্চা করতে হবে নিয়মিত। মনকে শান্ত রাখতে যোগ ব্যায়াম, প্রাণায়াম করতে হবে। খোলা হাওয়ায় বের হলে খেয়াল রাখতে হবে সুরক্ষার বিধি যেন মেনে চলা হয়। ওই সময় আর অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা নয়, বরং মন অন্য দিকে রাখলে ভাল হয়। প্রকৃতি, পরিবেশ থেকে আনন্দ নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।