আতঙ্কের নাম জলাতঙ্ক, কুকুর, বিড়াল আঁচড়ালে বা কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

কুকুর বা বিড়াল কামড়ালেই প্যানিক শুরু হয়ে যায়। আতঙ্ক এতটাই বেশি হয় যে কী করা উচিত তা মাথাতেই থাকে না। তার ওপর নানা জনে নানা নিদেন দেন। সেইসব পরামর্শ মানতে গিয়ে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক আতঙ্কের কারণ হলেও এর একমাত্র চিকিৎসা হল টিকা। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলেই জীবাণু সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। মৃত্যুর ঝুঁকিও কমে।

কুকুরের লালায় থাকা র‌্যাবিস লিসা ভাইরাস জলাতঙ্ক অসুখের কারণ। এই অসুখের কোনও চিকিৎসা না থাকায় একসময় মৃত্যু ছিল অবধারিত। কুকুর-সহ অন্য কোনও প্রাণী যেমন বিড়াল, বাদুড়, গরু, ছাগল, ঘোড়া, শেয়াল, খরগোশ ইত্যাদি কামড়ে দিলে র‌্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণে জলাতঙ্ক হতে পারে।

 Dog Bite

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে প্রত্যেক বছর জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের প্রায় ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্কের টিকা নিয়ে সচেতনতা অনেক কম। বেশিরভাগ জায়গাতেই এই টিকা দেওয়ার পরিকাঠামো নেই। তাই কুকুর বা এই জাতীয় প্রাণী কামড়ে দিলে জীবাণু সংক্রমণে মৃত্যু হয় রোগীর। জলাতঙ্কের টিকা নিয়ে সচেতনতা দরকার, সে কারণেই প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালন করা হয়।

কুকুর বা বিড়াল আঁচড়ালে, কামড়ালে কী করা উচিত?

সঙ্গে সঙ্গে জায়গাটা রানিং ট্যাপ ওয়াটারে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এর পরে সাবান দিয়ে অবশ্যই আরও কিছু ক্ষণ ধুয়ে নিন জায়গাটা।  যোগাযোগ করুন ডাক্তারকে। ভ্যাকসিনেশন খুব জরুরি এ ক্ষেত্রে। এই আঁচড়ের পরে যদি সঙ্গে সঙ্গে কলের জল না পান কিছু ঘণ্টা পরে হলেও অবশ্যই রানিং ট্যাপ ওয়াটারে জায়গাটা ধুতেই হবে। নইলে জার্মটা যাবে না। র‍্যাবিস ভাইরাস সাধারণত পশুদের স্যালাইভা বা থুতুর মধ্যে দিয়ে মানুষের শরীরে বেশি আসে, তবে কুকুর, বিড়াল বা বাঁদর আঁচড়ে দিলেও সেই ভাইরাস অ্যাটাক করতে পারে। আর এতে সঠিক চিকিৎসা না হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কাদের ভ্যাকসিন নিয়ে রাখা জরুর?

যাঁরা যাঁরা রাস্তার কুকুর-বিড়ালদের নিয়ে কাজ করেন, বা পশুচিকিৎসার সঙ্গে জড়িত, কোনও ল্যাবে কাজ করেন প্রত্যেকেরই এর প্রয়োজনীয়তা আছে। যে কোনও সময়েই পশুর আঁচড়-কামড় লাগতে পারে, তাই এই ‘Pre exposure’ খুব জরুরি। আঁচড় কামড়ের পরে যে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয় তা ‘Post exposure’।

 Rabies After Being Bitten

এখন যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তাতে শেষ দু’টো ডোজ দিতে হয় না সাধারণ ক্ষেত্রে। তবে ক্যানসার, ডায়বেটিস, এইচআইভি-র মতো রোগ থাকলে তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই এঁদের ১৪ এবং ২৮ নম্বর ডোজটাও দিতেই হয়। একই ভাবে যাঁরা স্টেরয়েড নেন, তাঁদেরও পুরো ডোজ দেওয়া হয় এখনও। কারণ তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির পোষ্য হলেই সব সময় যে নিশ্চিন্ত থাকা যায় তা নয়। তাকে তিন এবং চার মাসে অ্যান্টি র‍্যাবিস দিতে হবে। সঙ্গে প্রতি বছর একটা করে ভ্যাকসিন দিতে হয়। এক বছর পেরিয়ে গেলে ওই ভ্যাকসিনের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই পোষ্যরা র‍্যাবিস আক্রান্ত হতেই পারে, যার জেরে তার আঁচড়-কামড়ে আপনার জলাতঙ্ক পর্যন্ত হতে পারে।

Rabies Vaccine

র‌্যাবিসের ভাইরাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। বিশেষত মস্তিষ্ককে ভয়ানক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে জ্বর, পেশির দুর্বলতা, কামড়ের জায়গায় অসম্ভব জ্বালা, অনিদ্রা, অ্যাংজাইটি, হ্যালুসিনেশন, কনফিউশন, লালা পড়া, গিলতে কষ্ট সঙ্গে জল দেখলে ভয় এই সব উপসর্গ দেখা দেয়। তবে টিকা নিয়েই জীবাণুকে আটকে দেওয়া সম্ভব।