৩ মাস ধরে হয়নি হার্ট প্রতিস্থাপন, মাইট্রাক্লিপ পদ্ধতিতে কৃষকের প্রাণ বাঁচাল অ্যাপোলো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হার্টে মাইট্রাক্লিপ ইমপ্ল্যান্ট করে ৪১ বছর বয়সি এক কৃষকের প্রাণ বাঁচাল অ্যাপোলো হসপিটাল, অ্যাপোলো। হার্ট প্রতিস্থাপন করা দরকার ছিল তাঁর। মাস তিনেকের বেশি সময় অপেক্ষা করার পরে অবশেষে মাইট্রাক্লিপ ইমপ্ল্যান্টের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

দেশে সবচেয়ে বেশি মাইট্রাক্লিপ ইমপ্ল্যান্টের অস্ত্রোপচার করা কার্ডিওলজিস্ট, অ্যাপোলো হাসপাতালের ডক্টর সাই সতীশ বলছেন, “পাঁচ জনের হার্ট প্রতিস্থাপনের রোগীর মধ্যে এক জনকে প্রতিস্থাপন না করেই বাঁচানো যেতে পারে এই মাইট্রাক্লিপ ইমপ্ল্যান্ট থিওরির মাধ্যমে।” সদ্য সেরে ওঠা ৪১ বছরের ওই কৃষকও তাঁদেরই একজন। অ্যাপোলো জানিয়েছে, চলতি প্যানডেমিক আবহে এই পদ্ধতিতে বেশ কয়েক জনকে সুস্থ করে তুলেছে তারা।

জানা গেছে, হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার পরে ৪১ বছরের ওই কৃষক, জাদা কামেশ্বরা রাওয়ের হার্ট প্রতিস্থাপন করতে হবে বলে জানান চিকিৎসকরা। অনেক দিন ধরে অনেক হাসপাতালে ঘুরেও সুরাহা হয়নি। শেষমেশ অ্যাপোলোর চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন মাইট্রাক্লিপ ইমপ্ল্যান্টের। কয়েক জিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়েছেন রোগী। 

অ্যাপোলো গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতা রেড্ডি এবিষয়ে বলেন, “গবেষণায় প্রমাণিত, হার্ট ট্রান্সপ্লাট না করাতে পারলে তার আগের ধাপ হিসেবে মাইট্রাক্লিপ ইমপ্ল্যান্ট সফল। এটি যে শুধু চিকিৎসকদের কাছে সমাদৃত তাই নয়, এটি রোগীদের ক্ষেত্রেও বেশ কার্যকরী। ফলে প্রতিস্থাপনের সংখ্যা কমে। এই কোভিড পর্বে তেমনই একটি নিদর্শন আরও একবার রাখল অ্যাপোলো।”

সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডক্টর সাই সতীশ বলেন, “মাইট্রাক্লিপ হল একটি ছোট ধাতব ক্লিপ। হার্টের মাইট্রাল ভালভে ফুটো হলে সেই জায়গায় এই ক্লিপ বসিয়ে ফের চালু করা যায় রক্ত চলাচল। হার্ট ফেলিওরের রোগীদের চিকিৎসায় সারা বিশ্বে এই পদ্ধতি চলছে। ভারতেও গত তিন বছর ধরে বহু রোগীর এই অস্ত্রোপচার হয়েছে। পরিণতিও খুব ভাল।”

মাইট্রাক্লিপ হল এক বৈপ্লবিক যন্ত্র, যা এই দেশে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে বছর তিনেক আগে। মাইট্রাল ভালভে ফুটো হলে, যাকে মেডিক্যাল পরিভাষায় বলে মাইট্রাল রিগার্জিটেশন, তা কার্ডিয়াক ফেলিওরের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এইরকম রোগীদের জন্য মাইট্রাক্লিপ প্রসিডিওর হল এক নন-সার্জিক্যাল বিকল্প। এই পদ্ধতিতে ওপেন হার্ট সার্জারি এড়িয়ে উরুর একটা শিরার মধ্যে ক্যাথিটার ঢুকিয়ে হৃদপিণ্ডে পৌঁছানো হয়। তার পরে রিয়েল টাইম থ্রিডি ইকোকার্ডিওগ্রাফিক ও ফ্লুওরোস্কোপিক সাহায্য নিয়ে মাইট্রাক্লিপ যন্ত্রটি হৃদপিণ্ডে স্থাপন করা হয়।

MitraClip implant at Apollo Hospitals saves 41-year-old farmer who waited 91 days for heart

তথ্য বলছে, ২০০৩ সালে আমেরিকায় প্রথম মাইট্রাক্লিপ ইমপ্ল্যান্ট হয় পরীক্ষামূলক ভাবে। এর পরে বাণিজ্যিক ভাবে এই পদ্ধতি ইউরোপে চালু হয় ২০০৮ সালে। ২০১৩ সালে চালু হয় আমেরিকায়। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে সফল ভাবে চলছে এই ইমপ্ল্যান্ট। ভাল আছেন লক্ষাধিক রোগী।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হার্টের মাইট্রাল ভালভ যদি ফুটো হয়ে যায়, তাহলে আধুনিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওপেন হার্ট সার্জারি না করেই তা মেরামত করা যায় এখন এই পদ্ধতিতে। যেসব রোগীদের অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি খুব বেশি, তাঁদের জন্য এই প্রসিডিওর জীবনদায়ী।