Heart Attack: বুক জ্বালা, ব্যথা হলেই অ্যান্টাসিড খাচ্ছেন? এই ভুলটা কেকেও করেছিলেন

গুড হেলথ ডেস্ক

গলার কাছে দলা পাকানো জ্বালা, তারপরেই বুকে কেমন চাপ লাগছে! একটা হাঁসফাঁস, দমবন্ধভাব (Heart Attack)। চিনচিনে একটা ব্যথা টানা হতেই থাকে। মাঝেমাঝে সেটা আবার চাগাড় দিয়ে ওঠে। বুক জ্বালা, বুকে ব্যথা মানেই অ্যাসিডিটি ভেবে গাদাগুচ্ছের অ্য়ান্টাসিড খেয়ে ফেলি আমরা। কী থেকে ব্যথা হচ্ছে, কেন হচ্ছে তার কারণ জানার দরকারই নেই। এই অবহেলা এবং গা ছাড়া ভাবটাই বিপদের কারণ হয়ে ওঠে পরবর্তী সময়ে। ঠিক যেমন কিছু না জেনেই এবং ডাক্তারের সঙ্গে কথা না বলে মুঠো মুঠো হজমের ওষুধ খেয়ে গেছিলেন কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী কেকে।

কার্ডিওলজিস্টরাই বলছেন, সঠিক সময় চেকআপ করালে রোগ ধরা পড়ত। ফ্য়াটি হার্ট (Heart Attack) থেকেই মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কসন হয়েছিল কেকে-র। দীর্ঘ সময় ধরে হার্টের চারপাশে চর্বির স্তর জমে রক্ত সঞ্চালন বাধা পাচ্ছিল। শক্ত হয়ে যাচ্ছিল হৃদপেশি, হার্টের রিদম বা ছন্দেও ওলটপালট হচ্ছিল। সেই লক্ষণ জানান দিয়েছিল বহু আগে থেকেই। একবার যদি পরীক্ষা করাতেন তিনি তাহলে অকালে এমনভাবে চলে যেতে হত না।

 Antacid

মুঠো মুঠো ওষুধই বিপদের কারণ, নিজে থেকে ডাক্তারি করবেন না

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, আমরা অধিকাংশই এই ভুলটা করে থাকি। হজমের গোলমাল মানেই অ্য়ান্টাসিড, বুকে ব্যথা-বুক জ্বালা হলেও অ্যান্টাসিড। ডোজ না জেনেই গাদা গাদা লিক্যুইড অ্য়ান্টাসিড খাই প্রায় প্রতিদিনই। বুকে ব্যথাটা কেন হচ্ছে, কী কারণ সেটা জানার চেষ্টা করি না কেউই। ফলে গলদটা হয়ে যায় গোড়াতেই। ভবিষ্যতে আচমকাই একদিন জবাব দেয় শরীর। ঠিক যেমন আচমকা হার্টবিট হয়ে বন্ধ হয়ে মৃত্যু হল কেকে-র।

Myocardial Infarction: হার্টকে ঘিরে চর্বির স্তর, বিগড়ে যায় হৃদগতির ছন্দ, কেকে-র মতো এই রোগের শিকার কমবয়সীরাই

Serious as a Heart Attack: 7 Facts about Cardiovascular Disease

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, বুকে ব্যথা মানেই সব সময় যে খুব খারাপ, তা নয় (Heart Attack)। আবার হতেও পারে ব্যথার কারণ হার্ট। এমনটা হলে বাড়িতে ডাক্তারি না করে রোগীকে তড়িঘড়ি কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। তেমন মারাত্মক কিছু না হলে বাড়ি চলে আসবেন। কিন্তু একবার দেখিয়ে নিলে নিশ্চিন্ত। বিপদ কখন কোথা দিয়ে আসবে তা তো বলা যায় না। এখন কমবয়সীরাি বেশি হার্টের রোগে ভুগছে। সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম, শরীরচর্চার সময় নেই, সিগারেট-অ্য়ালকোহলে আসক্তি, মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম-রাত জাগা, সেই সঙ্গেই মানসিক চাপ-অ্য়াংজাইটি হার্ট অ্য়াটাকের কারণ হয়ে উঠছে।

 

হজমের ওষুধ ১৫ মিনিটে কাজ না করলে বুঝবেন বিপদ আসতে পারে

হার্টের সমস্যা হলে অনেক রকম লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ বলেন বুকে জ্বালা করছে (Heart Attack)। বুকের মাঝে চাপ ধরা ব্যথা। আবার বুকে ব্যথা না হয়ে ঘাড়ে, পিঠে বা চোয়ালেও ব্যথা হতে পারে। ব্যথা বাঁ হাতের দিকেও নেমে আসতে পারে। ডায়বেটিস রোগীরা আবার এ সব কিছুই টের পান না। হঠাৎ করে ঘামতে শুরু করলে বা শ্বাসকষ্ট হলে একটা আভাস পাওয়া যায়। ব্যথার ধরন দেখে নিশ্চিত ভাবে কিছু বোঝা যায় না। তবে অ্যাসিডিটি সন্দেহ করে প্রথমে কিছু ওষুধ খেয়ে ফেলেন অনেকে।

Heart Attack

আবার ট্যাবলেটও চিবিয়ে খান অনেকে। নিছক অ্যাসিডিটি হলে মিনিট পনেরো-কুড়ির মধ্যে সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু যদি দেখেন আবার ব্যথা বা জ্বালা ফিরে আসছে, কালবিলম্ব না করে হাসপাতালে পৌঁছনোর চেষ্টা করবেন। বাড়িতে ডাক্তার ডেকে বেশি সময় অপেক্ষা করবেন না। এ ক্ষেত্রে সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নইলে বড় বিপদ হতে পারে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছে একটা ইসিজি আর ট্রপোনিন টি টেস্ট করলে বোঝা যাবে সমস্যাটা হার্টের কিনা।

ট্রোপোনিন টি এক রকমের রক্ত পরীক্ষা। ওষুধের দোকানে এক রকমের কিট পাওয়া যায়। সেটা দিয়েই চটজলদি এই পরীক্ষা করে নিলে বোঝা যায় হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা আছে কিনা। অনেকটা বাড়িতে সুগার পরীক্ষা করার মতো। জিভের তলায় একটা সরবিট্রেট দিলে ব্যথাটা খানিক ধরবে। আর ২০০ মিলিগ্রামের একটা অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট জিভের তলায় দিতে পারেন। যদি অ্যাসিডিটি হয় তাহলে অ্য়াসপিরিন সেটা বাড়িয়ে দেবে, কিন্তু হার্টের সমস্যা হলে প্রাথমিকভাবে ওতেই কাজ হবে।

বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে একবার অন্তত ইসিজি, ইকোকার্ডিয়োগ্রাম বা ট্রেড মিল টেস্ট করিয়ে নিন। সাবধানের মার নেই!