আচমকা বুক ধড়ফড়, শরীরে অস্বস্তি, সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

সুস্থ শরীরে কাজ করছেন, আচমকাই বুকের বাঁ দিকে চিনচিনে ব্য়থা। তারপরেই সারাক্ষণ মনে হচ্ছে বুক ধড়ফড় (Heart Palpitations) করছে। বুকের ভেতরে কেউ হাতুড়ির ঘা কষাচ্ছে। সেই সঙ্গে সারা শরীরে অস্বস্তি। বুক ধড়ফড় করা মানেই হার্ট অ্যাটাক হবে, এমনটা নয়। তবে এই সমস্যা ক্রনিক হতে থাকলে তখন ঝুঁকি বেড়ে যায়। হার্ট বিট বা হৃদস্পন্দনের গোলমাল করে এমন বুক ধড়ফড় করে। এই সময় বেশি চিন্তা বা টেনশন না করে যা যা করলে আরাম হবে সে নিয়ে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুস্থ মানুষের হৃদযন্ত্র এক মিনিটে ৭২ বার পাম্প করে অক্সিজেন যুক্ত বিশুদ্ধ রক্ত শরীরের কোষে কোষে পৌঁছে দেয়। কিন্তু কখনও কখনও বিভিন্ন কারণে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ বেড়ে (Heart Palpitations) কিংবা কমে যেতে পারে। হৃদযন্ত্র ঠিক ভাবে পাম্প করতে না পারলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পায় না। ডাক্তারি পরিভাষায় হৃদযন্ত্রের রিদিমের গোলযোগের নাম ‘অ্যারিদমিয়া’। ডেন কার্ডিয়াক ডেথের এক অন্যতম কারণ অ্যারিদমিয়া। প্রতি ১০০০ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জনের হৃদযন্ত্রের ছন্দের গোলমাল আছে। বয়স ৬০ বছর পেরলেই এই সমস্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ৬০ উত্তীর্ণদের মধ্যে ২০ শতাংশ মানুষের হৃদযন্ত্র অস্বাভাবিক ছন্দে চলে। আর ৭০ বছর অথবা তারও বেশি বয়সে অ্যারিদমিয়া বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ শতাংশে।

Heart Palpitations

অ্যারিদমিয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া থেকে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকে। তবে বুক ধড়ফড় (Heart Palpitations) করা মানেই তেমন কিছু বিপদ আসবে তা নয়। অনেক সময় ভারী ব্যায়াম করলে বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করলে, সিঁড়ি ভাঙলে বুকে ধড়ফড়ানি শুরু হয় অনেকের। হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে অর্থাৎ রক্তের সুগার কমে গেলে, রক্তশূন্যতা থাকলে, রক্তচাপ কমে গেলে, জ্বর হলেও অনেকের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

heart

হার্টবিট বেড়ে বুক ধড়ফড় করলে কী করবেন?

কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, এই সময় উত্তেজিত না হয়ে বরং মন শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

বুক ধড়ফড় করলে ডিপ ব্রিদিং করুন। ধীরে ধীরে শ্বাস টেনে আবার ছাড়বেন। এমন করতে থাকুন অনেক আরাম হবে।

বদ্ধ জায়গায় থাকবেন না, চেষ্টা করুন খোলা জায়গায় হেঁটে আসতে

এই সময় ভুলেও সিগারেটে টান দেবেন না। অ্যালকোহল তো নয়ই।

Heart

সুবিধা থাকলে উষ্ণ গরম জলে স্নান করুন। প্রথমেই জল হুড়হুড় করে মাথায় ঢালবেন না। আগে পা ভেজান, তারপর হাত, গায়ে জল দিয়ে শেষে মাথা ভেজান।

শরীরে অস্বস্তি শুরু হলে (Heart Palpitations) ভারী কাজ করবেন না, সিঁড়ি ভাঙা একদমই নয়। চুপ করে কিছুক্ষণ শবাসনে সুয়ে থাকুন। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন।

পরিস্থিতি নাগালের বাইরে যেতে শুরু করলে দেরি করবেন না, ডাক্তার দেখিয়ে নিন।

ইসিজি, ইকো-কার্ডিওগ্রাম, ইটিটি, থাইরয়েড ফাংশন পরীক্ষা ও ইপি (ইলেকট্রোফিজিওলজি) পরীক্ষা করিয়ে নিন।

কোনও রকম স্ট্রেস নেওয়া চলবে না। উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা কমিয়ে ফেলুন। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে শরীরচর্চা করুন। বড় কোনও বিপদ হওয়ার আগেই সাবধান হতে হবে।