Myocardial Infarction: হার্টকে ঘিরে চর্বির স্তর, বিগড়ে যায় হৃদগতির ছন্দ, কেকে-র মতো এই রোগের শিকার কমবয়সীরাই

গুড হেলথ ডেস্ক

সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট নয়, বরং হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্য়ু হয়েছে নব্বইয়ের দশক কাঁপানো কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী কৃষ্ণকুমার কুন্নথ ওরফে কেকে-র (Myocardial Infarction)। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এমনটাই বলছে। ফরেন্সিক বিশষেজ্ঞরা হার্টের কাঁটাছেড়া করে চমকে উঠেছেন। কেকে-র হার্টের চারপাশে জমে ছিল চাপ চাপ চর্বির স্তর, শক্ত হয়ে গেছিল হৃদপেশি। এর মানে হল দীর্ঘদিন ধরেই অকেজো হতে শুরু করেছিল হার্ট, যা টেরই পাননি সঙ্গীতশিল্পী। তার থেকেও আশ্চর্যের ব্য়াপার হল কেকে-র রক্তে নানা রকমের হজমের ওষুধ পাওয়া গেছে, মুঠো মুটো অ্য়ান্টাসিড খেতেন তিনি। হার্টের যে অসুখের জন্য কেকে-র মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা তার নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কসন (Myocardial Infarction)। আজকাল ভারতেই কমবয়সীরাই হার্টের এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।

জীবনযাপনে অসংযম, অস্বাস্থ্য়কর খাওয়া, নেশায় আসক্তি, মেন্টাল স্ট্রেস, ডায়াবেটিস-কিডনি অসুখ থাকলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কসনের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু কেকে ডায়েট মেনে খেতেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন, তাঁর ডায়াবেটিস বা প্রেসার ছিল কিনা তা জানা যায়নি বটে, তবে হার্টের এমন অসুখ কী করে বাঁধল সে বিষয়টাই ভাবাচ্ছে কার্ডিওলজিস্টদের। আর এটাই হল অ্যালার্মিং। সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে এত অনিয়ম, মানসিক চাপ, নেশা করার প্রবণতা কমবয়সীদের হার্টের রোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যাঁর শরীরে অন্য কোনও রোগ নেই, নিয়ম মেনেই খাওয়াদাওয়া করেন কিন্তু চূড়ান্ত মানসিক চাপ বা টেনসনে ভোগেন তাঁরাও বিপদের বাইরে নন।

Myocardial Infarction

কী এই মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কসন?

হার্ট মাসল বা হৃদপেশিতে প্রদাহ হয়। হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ বাধা পেলে হৃদপেশীতে প্রদাহ শুরু হয়। হার্ট মাসল বা হৃদপেশীতে প্রদাহ তথা ইনফ্ল্যামেশন হলে তাকেই বলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।

এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়, হৃদগতির ছন্দ বিগড়ে যায়। বাড়াবাড়ি হলে ধমনীর মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে ব্লক হয়ে যায়। তখন বুকে ব্যথা অনুভব করে রোগী। হঠাৎ করেই বুকে অসহ্য ব্যথা, সেই সঙ্গে ঘাম আর শরীরে নানাবিধ অস্বস্তি, এই উপসর্গগুলোই জানান দেয় হার্ট অ্যাটাকের শঙ্কা রয়েছে।

Myocardial infarction

ছন্দ হারায় হার্ট

কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, হার্টের ক্ষমতা এক ধাক্কায় কমে যায়। সোজা কথায় বলতে গেলে, হার্ট আর পাম্প করে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে পারে না। হৃদগতির ছন্দ বিগড়ে যায়। ধমনীর মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে ব্লক হয়ে যায়। তখনই বুকে ব্যথা শুরু হয়।

কেন হয়? নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন, অতিরিক্ত স্ট্রেস, চিন্তা, লাইফস্টাইলে বদল, নেশার প্রবৃত্তি, মেদবাহুল্য, ডায়াবেটিস-হাইপারটেনশন আবার জেনেটিক কারণও থাকতে পারে। আমাদের দেশে এই হৃদরোগের চিকিৎসাই বেশি হয়। কারণ ভারতে ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীদের সংখ্যা বেশি। এর থেকে ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজের ঝুঁকিও বাড়ে। ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজ (আইএইচডি) হৃদপিণ্ডের এমন এক রোগ যেখানে রক্তনালীগুলো সংকীর্ণ হয়ে হৃদপেশিতে রক্ত ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে দিতে পারে না। হৃদপেশিতে পুষ্টি উপাদানের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের (ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া) কারণে করোনারি আর্টারির পথ সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় রক্তনালীতে চর্বি জমতে থাকে। এর ফলস্বরূপ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন রোগী।

myocardial infarction

কী কারণে হতে পারে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কসন?

হঠাৎ করেই বুকে অসহ্য ব্যথা, সেই সঙ্গে ঘাম আর শরীরে নানাবিধ অস্বস্তি, এই উপসর্গগুলোই জানান দেয় হার্ট অ্যাটাকের শঙ্কা রয়েছে।

হার্ট তার নিজের ছন্দে চলে। রক্তনালীর মাধ্যমে হার্ট থেকে রক্ত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ডাক্তারবাবু বলছেন, অনেক সময় দেখা যায়, এই রক্তনালী স্টিফ হয়ে গিয়ে রক্ত প্রবাহে বাধা দেয়। তখন অতিরিক্ত চাপে হৃদপেশীগুলো ফুলে উঠতে থাকে, প্রদাহ শুরু হয়। আবার অনেক সময় রক্তবাহ ধমনীতে ক্যালসিয়াম, কোলেস্টেরল জমে গিয়ে রক্ত চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয় (ক্যালসিফিকেশন)। তখন হার্টে ব্লকেজ দেখা দেয়। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে এই ব্লক ছাড়িয়ে দেন ডাক্তাররা।