জন্ডিসে ভুগছেন না তো? কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

কখনও ভ্যাপসা গরম, আবার কখনও ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। এই সময় সংক্রমণজনিত রোগ বেশি হয়। হজমে সমস্যা, পেটের গোলমাল, ডায়েরিয়া লেগেই থাকে। অজান্তেই কখন জন্ডিস বাসা বাঁধবে শরীরে বুঝতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। চিকিৎসকদের মতে, মূলত খাদ্য ও জল থেকেই এই রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।

জন্ডিস কেন হয়?

রক্তে হলুদ রঙের পিত্ত বিলিরুবিন বেড়ে গেলে জন্ডিস হয়। বিলিরুবিন শরীরের স্বাভাবিক রক্তচলাচলে বাধা দেয়। তখন জন্ডিস হয়। এই অসুখের নাম হেপাটাইটিস। র ভাইরাস সরাসরি লিভারকে আক্রমণ করে। অনেক সময় জন্ডিসের প্রাথমিক উপসর্গ ধরা যায় না। ফলে রোগ ঘাপটি মেরে শরীরে থেকে যায়। পরে গিয়ে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

গোড়া থেকেই রোগের লক্ষণ চিনে ট্রিটমেন্ট করালে দ্রুত সেরে যায়। জন্ডিস তিন রকমের হয়— ১) প্রিহেপাটিক জন্ডিস ২) হেপাটোসেলুলার জন্ডিস ৩) পোস্ট হেপাটিক জন্ডিস বা অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস

Jaundice

কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন?

প্রথমেই লক্ষ্য রাখুন প্রস্রাবের রঙের দিকে। হলুদ প্রস্রাব ক্রমাগত হতে থাকলে রক্তপরীক্ষা করান।

জন্ডিস বাড়তে থাকলে চোখ ও ত্বকের রঙও হলুদ হতে থাকে।

সবচেয়ে বড় লক্ষণ মল ও মূত্রের রঙে বদল হতে থাকে।

খিদে কম, মুখে স্বাদ না থাকা, খাবারে অরুচি হলে সতর্ক হতে হবে।

ক্রমাগত হজমের গোলমাল, ওজন কমতে থাকলে সাবধান হতে হবে।

ছানি অপারেশন হয়েছে? নিয়ম মানুন, কী কী করবেন আর কী করবেন না

 Jaundice

জন্ডিস হলে মাঝেমাঝেই পেটে ব্যথা করে ওঠে। বিশেষ করে পাঁজরের নীচের ডান দিকে ব্যথা হতে থাকে। বমিভাবও থাকে।

পিত্ত পিত্তনালীতে প্রদাহ তৈরি করে। বেশিরভাগ সময়েই পেট জ্বালা করতে থাকে।

Diet Chart For jaundice Patient

কীভাবে সাবধান হবেন?

জল ফুটিয়ে খেতে হবে অবশ্যই। না হলে জিওলিন মিশিয়ে জল খান।

রাস্তার খাবার একেবারেই বন্ধ করতে হবে। জাঙ্ক ফুড, প্রসেসড মাংস, কোল্ড ড্রিঙ্কস-চিপস-আইসক্রিম খাওয়া চলবে না।

রাস্তার কাটা ফল, ঘোল, শরবত সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন।

পেঁপে, সবুজ শাকসব্জি, ফল (ফলের রস নয়) রাখুন খাদ্যতালিকায়।

জন্ডিস হয়েছে এমন রোগীর রক্ত থেকেও শরীরে সংক্রমণ ঘটতে পারে এই অসুখ। তাই ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহারে সতর্ক হোন।

এই সময় মশাবাহিত রোগ থেকে সাবধান হতে হবে। মশারি টাঙিয়ে শোওয়ার চেষ্টা করুন।