ছোট ছোট স্মৃতি উবে যাচ্ছে কর্পূরের মতো? যে সাত অভ্যাস ডিমেনশিয়াকে জব্দ করতে পারে

গুড হেলথ ডেস্ক

‘স্মৃতিরা গেছে পরবাস, কথারা হয়েছে নিঝুম’…

স্মৃতির পাতা ধীরে ধীরে খালি হতে শুরু করেছে (Dementia)। উবে যাচ্ছে ছোট ছোট ভাবনাগুলোও। অফিসের প্রজেক্টের ডেডলাইন থেকে ছেলেময়ের স্কুলের ফি জমা দেওয়ার তারিখ, ডেবিট কার্ডের পাসওয়ার্ড থেকে ঘরের টুকিটাকি, সবই কেমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে আজকাল। চেষ্টা করেও বন্ধুর নাম মনে রাখতে পারছেন না, জরুরি দিনগুলো স্মৃতির পাতা থেকে বেমালুম উধাও হয়ে যাচ্ছে। তার ওপর দুশ্চিন্তা তো আছেই। স্মৃতিনাশ বা ডিমেনশিয়া এখনকার দিনে সাঁড়াশি আক্রমণ করেছে তরুণ থেকে প্রবীণদের।

এখনকার দিনে বেশিরভাগের মুখেই একই কথা। সবকিছুই ভুলে যাচ্ছি। কিছুই যেন থাকে না মনে। ছোট ছোট ভুলে যাওয়াগুলোই একদিন বড়সড় অসুখের চেহারা নেবে সেটা বলাই বাহুল্য। কিছুক্ষণ আগে শোনা কথা ভুলতে শুরু করতে পারেন, কিছুদিন আগের ঘটনাও স্মৃতি থেকে বেমালুম উবে যেতে পারে। নামধাম তো বটেই, গুরুত্বপূর্ণ যে কোনও বিষয়ই যদি স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে তাহলে মুশকিল। বেশি দেরি হয়ে গেলে ডাক্তার-বদ্যি করেও খুব একটা লাভ হয় না। ডিমেনশিয়া, অ্যালঝাইমার্সের মতো অসুখ ফণা তুললে তখন ওষুধ আর কাউন্সেলিংই সার।

Dementia

শারীরিক নানা কারণ আছে যার জন্য় মানুষ ভুলতে (Dementia) শুরু করে। এর মধ্য়ে প্রথমেই আছে থাইরয়েডের সমস্য়া। হাইপোথাইরয়েড বা হাইপারথাইরয়েড থাকলে স্মৃতির পাতা কিছুটা ধূসর হয়ে যায়।  দ্বিতীয় কারণ ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস থাকলে রক্তজালকগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হতে শুরু করে, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা তো বাড়েই, হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। মানসিক চাপ, অ্য়াংজাইটি, ডিজিটাল মাল্টিটাস্কিং, ক্রনিক ইনসমনিয়া –ডিমেনশিয়ার রিস্ক ফ্যাক্টরের তালিকাটা লম্বা। কথায় বলে না Prevention is better than cure। রোগ ধরার আগেই তার সম্ভাবনাগুলোকে নির্মূল করে ফেলাই দস্তুর। বিশেষ করে মনের রোগ হানা দেওয়ার আগেই তার কারণগুলোকে সমূলে বিনশ করা উচিত।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এই স্মৃতি হল টেপ রেকর্ডারের মতো, বারে বারে চালিয়ে আমরা তা মনে রাখার চেষ্টা করি। ভাল স্মৃতি হলে তাকে বারে বারে মস্তিষ্ক থেকে রোমন্থন করে নিয়ে আসি, আর খারাপ স্মৃতি না চাইতেও অবচেতনে থেকে যায়। ভবিষ্যতে কোনও ভয়ঙ্কর ট্রমা হয়ে ফিরে আসে। কিন্তু স্মৃতিরা যদি একেবারেই হারিয়ে যেতে বসে, তাহলে বুঝতে হবে রোগ ধরেছে মগজে। ডাক্তাররা বলবেন ডিমেনশিয়া (Dementia)। টুকটাক ভুলে যাওয়া নয়, ডিমেনশিয়ার রোগীরা নিজেদের নাম-পরিচয় অবধি ভুলতে বসেন। এই অসুখটাই বড় ভয়ঙ্কর।

করোনার মতোই ছোঁয়াচে, ফুসফুস ঝাঁঝরা করে দেয়, রেসপিরেটারি ভাইরাস মারতে খাওয়ার ওষুধ আসছে

Memory Dementia

মনোবিদেরা বলছেন, এই সাতটি অভ্যাস যদি রপ্ত করা যায়, তাহলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে।

স্মৃতিনাশকে বিনাশ করুন

১) প্রথমেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কোনওভাবেই যেন হাইপারটেনশন হামলে না পড়ে। রক্তচাপের গোলমাল হলেই তা পরবর্তীতে ব্রেনে প্রভাব ফেলবে।

২) কোলেস্টেরল অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কোলেস্টেরল বাড়তে বাড়তে ধমনীতে প্লাক তৈরি করে। সেই জমা স্তর পেরিয়ে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয় না। ফলে বিশুদ্ধ অক্সিজেন যুক্ত প্রবাহে বাধা তৈরি হয়। মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম পৌঁছনোর কারণে স্মৃতির পাতা ধূসর হতে শুরু করে।

৩) ব্লাড সুগার বেশি নেই তো? রক্তে শর্করা যদি উদ্যমে চড়ে থাকে তাহলে কিডনি, হার্ট, চোখ ও নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, টাইপ টু ডায়াবেটিস (Diabetes), হার্টের রোগ, স্ট্রোক হলে তা ব্রেন সেলকে মারাত্মকভাবে আঘাত করতে পারে। টাইপ ২ ডায়াবেটিস (Diabetes) যাঁদের আছে তাঁদের শরীরে লাইপোপ্রোটিন ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স (LPIR)বেড়ে যায়। যে কারণে প্রতিরোধ শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিসের কারণে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও বাড়ে। এই খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কোলেস্টেরল হার্টের রোগের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। বাড়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও।

৪) ডিমেনশিয়া (Dementia) ঠেকাতে হলে কার্ডিওভাস্কুলার রোগ থেকে সাবধান থাকতে হবে। তার জন্য পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

Neuroelectronic System

৫) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ওবেসিটি নানা রোগের কারণ হতে পারে। মেদ জমতে জমতে লিভার, হার্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়। হার্টের পেশিতে চর্বির স্তর জমে রক্ত সঞ্চালন বাধা পায়। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনই স্মৃতিনাশের সম্ভাবনাও বাড়ে।

৬)  ধূমপান বন্ধ করলে বেশি ভাল। মাত্রাতিরিক্ত সুখটান হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

৭) নিয়মিত শরীরচর্চা করলে যে কোনও রোগের ঝুঁকিই কমে। ব্রেনকে চাঙ্গা করতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট কার্ডিওভ্যাসকুলার এক্সারসাইজ যেমন, হাঁটা, জগিং, সাঁতার বা সাইক্লিং খুবই জরুরি৷