Depression Exercise: মন অশান্ত? অবসাদ-স্ট্রেস, এই ব্যায়ামগুলো রোজ করলে উপকার পাবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

মড সুয়িং বলে একটা কথাই আছে। মুড এই ভাল, তো এই খারাপ। মুড মাঝেমধ্যে খারাপ হতেই পারে, আবার নিজে থেকে সেরেও যায়। এগুলো স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সবসময়েই যদি মনখারাপ হতে থাকে এবং তা ক্রনিক হয়ে যায়, তাহলেই সমস্যা শুরু হয়। মুড ডিসঅর্ডার থেকে হতে পারে চূড়ান্ত অবসাদ। অতিরিক্ত উদ্বেগ নিয়ে বসে থাকলে মাস ছয়েকের মধ্যে জিএডি বা জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডারও হতে পারে। তখন তাকে সারাতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন মুড সুয়িং, প্রবল মানসিক চাপ, চিন্তা-উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ইত্যাদি মাথা চাড়াই দেবে না, যদি নিয়মিত শরীরচর্চা ও মেডিটেশন করা যায়। কিছু বিশেষ ব্যায়াম আছে যেগুলো অভ্যাস করলে যে কোনও রকম স্ট্রেস ও দুশ্চিন্তা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়।

Depression Exercise মুড সুয়িং ও মুড ডিসঅর্ডার থেকেই অবসাদ বা ডিপ্রেশন হানা দেয়। রোগীর নিজের ওপর আস্থা হারাতে থাকে। মনোবল কমে যায়। একই মানুষের মধ্যে যদি কখনও ডিপ্রেশন, আবার কখনও হাইপোম্যানিয়ার পর্ব চলতে থাকে, তাকে বলা হয় বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার । মন ও মেজাজ সবসময় দুই চরম স্থিতিতে থাকে। হয় প্রচণ্ড উচ্ছ্বাস না হলে একেবারে ভগ্ন, বিষাদগ্রস্ত, অবসাদে আচ্ছন্ন। মানুষ দিনে দিনে এত নেগেটিভ হয়ে যান, বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তাঁর যা হবে, সব খারাপই হবে। ভুল সিদ্ধান্ত নেন। খিটখিট করেন, খুঁতখুঁত করেন। সেখান থেকেই চরম অস্থিরতা শুরু হয়, মনোযোগ কমতে থাকে, আতঙ্ক, অনিদ্রা বাসা বাঁধে। বুক ধড়ফড় করে যখন তখন, শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে থাকে ধীরে ধীরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,সাইকোথেরাপি, বিশেষ করে কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি, ওষুধ এসব তো আছেই, সেই সঙ্গেই কিছু এক্সারসাইজ খুবই কাজে দেয়।

কী কী এক্সারসাইজ ও মেডিটেশন করলে মন ভাল থাকবে

চোখ বন্ধ করে শ্বাসের ব্যায়াম

মনের শান্তির জন্য দিনে কিছুটা সময় মেডিটেশন করা খুবই ভাল। ব্যস্ততা বেশি থাকলে আধ ঘণ্টা সময় দিন নিজেকে। এর মধ্যে কিছু হাল্কা এক্সারসাইজ ও ১০-১৫ মিনিট হলেও মেডিটেশন করে নিন। মন অনেক হাল্কা ও ফুরফুরে হবে। নিয়মিত করলে দুশ্চিন্তার মেঘ কাটতে শুরু করবে। শুধুমাত্র চোখ বন্ধ করে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোনিবেশ করলেই মানসিক স্থিরতা আসে। জোরে শ্বাস টেনে কিছুক্ষণ ধরে রেখে অল্প অল্প করে ছাড়ুন। দু’মিনিটের মনসংযোগও চিন্তা-ভাবনা অনেক স্বচ্ছ করে।

 Pranayama

 

ভুজঙ্গাসন

উপুড় হয়ে শুয়ে কনুইয়ে চাপ দিয়ে পেট অবধি তুলতে হবে। এতে মানসিক চাপ ও স্ট্রেস অনেক কমে।

 

তলপেটে চাপ দিয়ে শ্বাসের ব্যায়াম

মাটি বা বিছানায় শুয়ে পড়তে হবে। মাথা আর হাঁটুর তলায় বালিশ থাকলে  ভাল। তার পর একটা হাত রাখতে হবে পেটের ওপর। অন্য হাতটা থাকবে বুকের উপর। এবার শ্বাস নিতে শুরু করুন। শরীর নাড়াচাড়া করবেন না। এই ব্যায়াম মেরুদণ্ড সোজা করে পদ্মাসনে বসেও করা যায়।

শ্বাসটাকে কিছু ক্ষণ চেপে রাখার পর পাকস্থলীর পেশিগুলিকে চাপ দিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। এই ব্যায়াম ৫ থেকে ১০ মিনিট করতে হবে।

Breathing Exercises

শবাসনে থেকে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া

শবাসনে দু’পা ও দু’হাত ছড়িয়ে রেখে ধীরে ধীরে শ্বাস টানতে হবে। হাত-পা থাকবে টানটান। মন স্থির রাখতে হবে। ৬ থেকে ৭ সেকেন্ড ধরে শ্বাস টেনে কিছুক্ষণ ধরে রেখে আস্তে আস্তে ছাড়তে হবে। ১০ মিনিট এই ব্যায়াম করে দেখুন, মন অনেক শান্ত হবে।

 Supine Yoga

হাঁটা বা জগিং

হাঁটার থেকে ভাল ব্যায়াম আর নেই। প্রতিদিন ভোরবেলায় হাঁটার অভ্যাস করতে পারলে মন অনেক চাঙ্গা থাকবে। শরীরের সঙ্গে যদি মনেরও খেয়াল রাখতে হয় তাহলে কিছুটা সময় খালি পায়ে হাঁটলে অনেক উপকার হবে। ভোরবেলা ঘাসের ওপরে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে মাটির সঙ্গে সরাসরি মনের যোগাযোগ তৈরি হয়। সবুজ প্রকৃতির সংস্পর্শে মেজাজ ফুরফুরে হয়।

depression

দৌড়নো বা জগিং, স্পট জগিংও ভাল উপায়। এতেও মন ভাল থাকে। স্ট্রেস কমে।