স্মৃতিশক্তি বাড়াতে চান? মেধাও হবে তুখোড়, মেনে চলুন এসব নিয়ম

গুড হেলথ ডেস্ক

প্রতিদিন সব কিছু ভুলছেন? ছোট ছোট বিষয়গুলোও স্মৃতিতে থাকছে না? পরীক্ষার সময় লিখতে বসে দেখছেন কিছুই মনে নেই। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভুলে যাচ্ছেন, দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট প্রয়োজনগুলো মনে রাখতে পারছেন না। দুর্বল স্মৃতি শক্তি (Boost Memory) নিয়ে এক দিকে নাজেহাল, অন্য দিকে টেলিভিশনের হাজার খানেক প্রখর স্মৃতিশক্তির বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

ভুলে যাওয়ার বা ভুলো মনের নির্দিষ্ট বয়স হয় না। বৃদ্ধ বয়সে গিয়েই ভুলো মন হবে এমনটা হয়। বরং এখনকার সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে জীবনযাত্রায় এতটাই অনিয়ম যে কমবয়সীরাই বেশি ভুলে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি কম বয়সেই হানা দিচ্ছে স্মৃতিনাশ (Boost Memory) বা ডিমেনশিয়ার মতো মানসিক অসুখ।

Brain Function and Memory

বাড়ির কোনও দায়িত্বই হোক বা নিজের যাবতীয় কাজ, সব কিছুই মনে রেখে সঠিকভাবে নিয়ম মেনে করাটাই জরুরি।  ভুলে গিয়ে কথা না রাখতে পারা বা ভুলো মনের জন্য নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষতি কেউই চান না। স্মৃতিশক্তি (Boost Memory) বাড়াতে অথবা মস্তিষ্কের ঝিমিয়ে পড়া কোষ-স্নায়ুগুলোকে জাগিয়ে মেধা ক্ষুরধার করে তুলতে সকলেই চান। এর জন্য আলাদা কোনও ওষুধ বা থেরাপির দরকার নেই। প্রতিদিনের কাজের মধ্যেই এমন কিছু অভ্যাস আছে যা মেনে চললে স্মৃতির পাতা সতেজ থাকবে। বুদ্ধিও হবে পাকাপোক্ত। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হবে।

 boost memory

স্মৃতিশক্তি (Boost Memory) বাড়াতে কী কী অভ্যাস করবেন?

১) ব্যায়াম ও কিছু কিছু অ্যারোবিক্স মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে। অনেক রকম ব্রেন অ্যারোবিক্স আছে। রোজের কাজের মধ্যেই করতে পারেন।

যেমন–লেখালিখি শুরু করুন। যে বিষয়টা জানেন না সেটা নিয়েই পড়াশোনা করে লিখুন। এতে মস্তিষ্কের কোষগুলোর ব্যায়াম হবে। নতুন ভাষা শিখুন, নানা স্বাদের বই পড়ুন৷ সকালে স্বাস্থ্যসম্পর্কিত কিছু পড়লে, দুপুরে পড়ুন রহস্য কিংবা বিনোদন কিংবা হাসির গল্প, এতে পুরো মস্তিষ্কের ওয়ার্কআউট হবে৷ স্মৃতিশক্তি (Boost Memory) বাড়বে।

BOOST YOUR MEMORY POWER | Brain Workshop২) অবসরের সময় হাতে তুলে নিন ক্রশওয়ার্ড বা শব্দছক মেলানোর পাতা। বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে শব্দছক পাওয়া যায়। এতে শব্দের ভাঁড়ার বাড়ে, মস্তিষ্কও খাটতে হয়। তাতে স্মৃতিশক্তি আরও মজবুত হয়।

৩) বাংলা হোক বা ইংরেজি, অভিধান পড়ে প্রতি দিন দশটি করে শব্দ লিখে রাখুন খাতায়। দিনের শেষে তার কতগুলি মনে রাখতে পারছেন দেখুন। না পারলে আবার পড়ুন, তার পর লিখে ফেলুন শব্দগুলি। এই অভ্যাস করতে শুরু করলে দেখবেন ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি বাড়ছে।

৪) মেমরি গেম খেলতে পারেন। পরিবার বা বন্ধুদের আড্ডায় সমালোচনা না করে বরং মেমরি গেম খেলুন। এতে মনে রাখার ক্ষমতা অনেক বাড়বে।

৫) সুদোকু বা পাজল বোর্ড সমাধান করার অভ্যাস তৈরি করুন। নিজের সন্তানকেও এমন অভ্যাস করান। এতে মনে রাখার ক্ষমতা (Boost Memory) যেমন বাড়বে, তেমনই মেধার ধারও বাড়বে।

৬) কোনও হবি থাকলে তার চর্চা করুন মন দিয়ে৷ তা সে ছবি আঁকা হোক বা রান্না করা, বাগান করা। পছন্দের কাজে মন দিলে অবসাদ আসবে না, ব্রেনও সচল থাকবে। মনের জটিলতা থেকে রেহাই পাবেন।

৭) হাঁটু-কোমরের অবস্থা বুঝে নাচের ক্লাসে যোগ দিন৷ অ্যারোবিক্স শিখতে পারেন। এতে মন ভাল হবে, শরীরের ব্যায়াম হবে আর সেই সুবাদে অক্সিজেনের জোগান বেড়ে তরতাজা হবে মস্তিষ্ক।

৮) যা কিছু পড়বেন চেষ্টা করুন জোরে পড়ার। এতে শব্দগুলো মাথায় গেঁথে যাবে। মনে রাখার ক্ষমতা বাড়বে।

৯) মাথা খাটবে এমন খেলা খেলুন। ভিডিও গেম নয় খেলুন ব্রেন গেম। ইন্টারনেটে ব্রেন গেমের নানা রকম ভিডিও দেখুন। দাবা খেলুন।

১০) নতুন কোনও কাজ শেখার চেষ্টা করলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। যে কাজ কখনওই করবেন বলে ভাবেননি, তেমনই কিছু শেখার চেষ্টা করুন। এতে মস্তিষ্কও সক্রিয় থাকবে। রোজ একইরকম কাজ না করে তাতে বৈচিত্র্য আনুন। গবেষকরা বলছেন, কাজে বৈচিত্র্য থাকলে মস্তিষ্কেরও ওয়ার্কআউট হয়। মাথা যত ঘামাবেন ততই তার কাজ করার ক্ষমতা বাড়বে।

টম্যাটো ফ্লু নিয়ে সতর্কতা জারি, রাজ্যগুলিকে গাইডলাইন মেনে চলার নির্দেশ কেন্দ্রের