Schizophrenia: অকারণে ভয়, হ্যালুসিনেশন, ভারতে ৭ শতাংশ মানসিক রোগীই এই অসুখের শিকার

গুড হেলথ ডেস্ক

ভয়টা কিছুতেই মন থেকে যাচ্ছে না। আড়াল থেকে কেউ যেন সবসময় ভয় দেখায়। চোখের সামনে বিচিত্র সব দৃশ্য। কল্পনায় ভেসে আসে কারও কণ্ঠস্বর। অবচেতনেও দেখা দিয়ে যায় কেউ, উত্যক্ত করে (Schizophrenia)। মনের এই জটিল অসুখের কারণ ও চিকিৎসা এখনও অনেকটাই অধরা। মনের যেসব জটিল অসুখ নিয়ে গবেষণা চলছে স্কিৎজোফ্রেনিয়া তার মধ্যে একটি। এই অসুখ নিয়ে যেমন স্বচ্ছ ধারণা নেই, তেমনি আর পাঁচটা মনোরোগীর সঙ্গে স্কিৎজোফ্রেনিয়ার রোগীকে আলাদা করাও কঠিন। ভারতীয়দের মধ্য়ে এই রোগই বেড়ে চলেছে।

আগ্রা মেন্টাল অ্যাসাইলামের মনোবিদেরা বলছেন, হাসপাতালে যেসব মানসিক রোগীরা আসেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই স্কিৎজোফ্রেনিয়ার শিকার। কিন্তু এই রোগ যেহেতু চিহ্নিত করা মুশকিল, তাই স্কিৎজোফ্রেনিয়ার (schizophrenia) রোগীদের বাকি মানসিক রোগীর সঙ্গেই গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। স্কিৎজোফ্রেনিয়া মনের এমন এক জটিল অবস্থা তার থেরাপি সাধারণভাবে হয় না। আর পাঁচজন মনোরোগীর সঙ্গে স্কিৎজোফ্রেনিয়ার রোগীর পার্থক্য আছে, তাদের চিকিৎসাপদ্ধতিও আলাদা। গবেষণা বলছে, মনের রোগে ভুগছেন এমন ভারতীয়দের সাত শতাংশই নাকি স্কিৎজোফ্রেনিয়ার শিকার।

Schizophrenia

মনগড়া বিশ্বাস, হ্যালুসিনেশন, কী এই রোগ (Schizophrenia)?

স্কিৎজোফ্রেনিয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনও খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা। কোনও অভিজ্ঞতার ফলে অত্যধিক মানসিক চাপ থেকে এই সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়াও বংশগত কারণ, মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্যের অভাব, ভাইরাল ইনফেকশন বা ইমিউন ডিসঅর্ডার থেকে এই রোগ হতে পারে।

Schizophrenia

ডিলিউশন বা মনগড়া অলীক বিশ্বাস ও হ্যালুসিনেশন বা এমন কিছু দেখা যার বাস্তবে কোনও অস্তিত্বই নেই–এই দুই উপসর্গই বেশি দেখা যায় স্কিৎজোফ্রেনিয়ার রোগীদের। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০০ জন মনোরোগীর ১-২ শতাংশ এই রোগের শিকার। কিন্তু মুশকিল হল রোগটি নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা নেই অধিকাংশ মানুষের। এমনকী মনোরোগের মধ্যে স্কিৎজোফ্রেনিয়াকে (schizophrenia) আলাদা করে চিহ্নিত করাও রীতিমত কঠিন কাজ। সাধারণত ১৬-৩০ বছর বয়সের মধ্যেই এই রোগের প্রথম লক্ষণ দেখা যায়।

ডিলিউশন হল এমন কোনও একটি বধ্যমূল ধারণা যা মাথার মধ্যে গেঁথে যায়। রোগী তখন সেই বিশ্বাস থেকে বাইরে আসতেই পারে না। যেমন রোগীর মনে হতে পারে, কেউ তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে এবং তার জন্য নিজের পরিবারের বা আপনজনেদের মধ্যেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে। যতই আপনজন হোক, রোগীর মনে হয় সেই তার শত্রু। আবার অনেকের মনে হয়, বাইরে কেউ তাকে নিয়ে সমালোচনা করছে, কেউ তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সে নিয়েও অযথা ভয় ও উদ্বেগ শুরু হয়।

Schizophrenia

হ্যালুসিনেশন হল কাল্পনিক কিছু দেখা বা শোনা।  অডিটরি হ্যালুসিনেশন হলে, রোগীর মনে হবে বাইরে থেকে কোনও শব্দ বা কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে যেগুলির কোনও বাহ্যিক উৎস নেই। এরও নানা রকম প্রকাশ হতে পারে। মনে হতে পারে, এক বা একাধিক মানুষ তাঁকে নিয়ে সারা ক্ষণ কথা বলছে বা সমালোচনা করে চলেছে। বাইরে থেকে কেউ উত্যক্ত করছে, বা কেউ এমন আছে য়ে সারাক্ষণ তার সঙ্গে কথা বলছে।

এখনও পর্যন্ত এই নিরাময়ের কোনও উপায় বের করতে পারেননি মনোবিদরা। তবে ওষুধের সাহায্যে রোগের লক্ষণ ও প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই যত কম বয়সে রোগ ধরা পড়ে ও চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই ভাল।

Memory Loss: সেক্স করতে গিয়ে স্মৃতি গায়েব? শর্ট টাইম মেমরি লসে ভোগেন অনেকে