নরমাল ডেলিভারি চাইছেন? গর্ভাবস্থায় মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম

গুড হেলথ ডেস্ক

আজকের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে অবশ্য এ প্রশ্নটার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে – ক’জনই বা আর স্বাভাবিক প্রসবের (Normal Delivery) জন্য অপেক্ষা করেন? সিজারিয়ান ডেলিভারিই বেছে নেন বেশিরভাগ গর্ভবতী। বিশেষ করে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলোও এখন আর ঝুঁকি নিতে চায় না। এই সিজার বা সি-সেকশন এবং নরমাল ডেলিভারি কোনটা ভাল, সে নিয়ে মত অনেক। কেন্দ্রীয় সরকার কিছুদিন আগেই জানিয়েছিল, কম সময় ও কম পরিশ্রমে সিজার করারই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ডাক্তাররা, ফলে নর্ম্যাল ডেলিভারির পরিস্থিতি থাকলেও তা করা হচ্ছে না। এই নিয়ে বিতর্কও অনেক হয়েছে।

এখনকার দিনে বেশিরভাগ মহিলাই সিজারের দিকে ঝুঁকছেন। ধরেই নেওয়া হয় যে সিজ়ারিয়ান প্রসব অনেক নিরাপদ, ব্যথাহীন। তা ছাড়া, নরমাল ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করতে করতে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ অপারেশন করতে হয়েছে, এমনটাও দেখা গিয়েছে। তবে জানেন কি, অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মহিলাই নরমাল ডেলিভারি (Normal Delivery) বেছে নেন। ঐশ্বর্চ রাইও স্বাভাবিক প্রসব পদ্ধতিই বেছে নিয়েছিলেন।

 Pregnancy

দুটো দিকেই কিছু কিছু প্লাস এবং মাইনাস পয়েন্ট আছে। তাই আপনার ডাক্তারের পরামর্শই শোনা উচিত। স্বাভাবিক প্রসবে অপারেশন হয় না, তাই সেই সংক্রান্ত কোনও ঝুঁকিও থাকে না এবং পেটে কাটা দাগ হয় না। বাচ্চাকে জন্মের পর পরই মায়ের কাছে দেওয়া যায়, স্তন্যদানেও কোনও অসুবিধে হয় না। তবে স্বাভাবিক প্রসবে অনেক সময় লাগে, পরিশ্রম বেশি হয়। যখন ভ্রূণ জন্ম নালীপথ বেয়ে বেরিয়ে আসবে, তখন সেখানকার ত্বক ও কলাকোষে বাড়তি চাপ পড়ে, ফলে সেলাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পেলভিক মাসল দুর্বল হয়ে যায় – তবে সেটা বিরল। স্বাভাবিক প্রসবের সময় কিন্তু সারাক্ষণ ভ্রূণের উপর নজর রাখতে হয়, বাচ্চা গর্ভেই স্ট্রেসের শিকার হচ্ছে কিনা তা দেখতে হয়।

নর্ম্যাল ডেলিভারি যদি বেছে নিতে চান তাহলে কিছু নিয়ম মানতে হবে

আপনি প্রেগন্যান্ট জানার পর থেকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট মেনে চলুন। স্বাস্থ্যকর খাবার, টাটকা ফল ও শাক-সবজি প্রচুর পরিমাণে খান। সেই সঙ্গেই জোর দিন আয়রন, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের উপর।

শরীরে ফ্লুইড চলাচল ভাল হওয়ার জন্য জল খাওয়া খুব জরুরি। এতে রক্ত চলাচল ভাল হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয় না। কাজেই জল বেশি খেলে ডেলিভারিও অনেক সহজ হবে। গর্ভাবস্থায় প্রতি দিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল খান।

নরমাল ডেলিভারির জন্য শরীর সুস্থ, ঝরঝরে রাখা প্রয়োজন। স্ট্রেস বাড়লেই শরীর খারাপ হবে। নিজেকে সব সময় খুশি রাখুন। প্রয়োজনে মনোবিদের কাছে যান। প্রেগন্যান্সি মাসাজ নিলেও স্ট্রেস কমে।

অনেকে প্রেগন্যান্সির গোটা সময়টাই শুয়ে বসে কাটিয়ে দেন। এটা একেবারেই উচিত নয়। যদি ডাক্তার আপনাকে বেড রেস্টে থাকতে না বলেন, এবং অন্য কোনও জটিলতা না থাকে তাহলে সচল থাকুন। বাড়ির হালকা কাজকর্ম করুন। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে যোগাসন বা হালকা ব্যয়াম করুন। সকাল, সন্ধে হাঁটতে যান।

নরমাল ডেলিভারির জন্য অত্যন্ত উপকারী যোগব্যায়াম। এতে শরীরের পেশি শিথিল থাকবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনকী স্ট্রেস কমবে।