আইভিএফ আর আইইউআই-এর ফারাক কোথায়? বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় দুটোই কার্যকরী

গুড হেলথ ডেস্ক

বন্ধ্যত্বের (Infertility) চিকিৎসায় অত্যাধুনিক উপায় আইভিএফ (ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন)। তবে এই নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ও সংশয়ের শেষ নেই। মেয়েদের জননতন্ত্রের নানা সমস্যা ইদানীং কালে যেন ঘরে ঘরে বাড়ছে। এর ফলে শারীরিক অসুস্থতা তো বটেই, সেই সঙ্গে বড় সমস্যা হয়ে উঠছে বন্ধ্যত্ব। বহু দম্পতি ভুগছেন গর্ভধারণ না করতে পারার সমস্যায়। তবে এখন বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা অনেক উন্নত। আইভিএফ (IVF) ও আইইউআই (IUI) পদ্ধতি অনেক নিঃসন্তান দম্পতির মুখেই হাসি ফুটিয়েছে। দুই পদ্ধতিই কার্যকরী।

অনেকেই প্রশ্ন করে আইভিএফ আর আইইউআই (IVF Vs IUI) পদ্ধতি কি এক না আলাদা? কী পার্থক্য আছে?

ডাক্তারবাবুরা বলেন, স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ না হলে বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম বা পিসিওস, টিউবাল ফ্যাক্টর অর্থাৎ ফ্যালপিয়ান টিউবে সমস্যা বা এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলে অথবা পুরুষদের স্পার্ম কাউন্ট কম হলে বা স্পার্মের গতিশীলতা কম থাকলে, তখন এই দুই পদ্ধতিতে থেরাপি করা হয়। এই দুই পদ্ধতির মধ্য়ে ফারাক আছে।

What is the Difference Between an IUI and IVF

আইভিএফ (IVF) কী?

ভিট্রো কথাটির অর্থ শরীরের বাইরে। এই পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে জীবন সৃষ্টি করা হয় বলে পদ্ধতিটিকে ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বলে। চলতি কথায়, টেস্ট টিউব বেবি। যে মহিলারা ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিয়োসিস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে ভুগছেন তাঁদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বেশি। শুক্রাণুর অস্বাভাবিকতা, ডিম্বাশয়, ডিম্বনালী বা জরায়ুর সমস্যা, ডিম্বাণু নিঃসরণে অসুবিধে, এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রেও গর্ভধারণে সমস্যা হয়। প্রথমে ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশন দিয়ে স্ত্রীর ডিম তৈরির চেষ্টা করা হয়। স্বামীর সমস্যা থাকলে তাঁকেও ওষুধ দেওয়া হয়।

Fertility Awareness

ডিম্বানু আর শুক্রাণুর নিষেক ঘটানো হয় শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরিতে। ভ্রূণ তৈরির পরে তা ইনকিউবেটরে রাখা হয়। ২-৫ দিন পরে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয় মায়ের জরায়ুতে।  আইভিএফ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একের বেশি সন্তানের জন্মের সম্ভাবনা মাত্র ২০ শতাংশ, কারণ এতে ভ্রূণের সংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অনেকে মনে করেন, আইভিএফ পদ্ধতিতে একাধিক ভ্রূণ স্থানান্তরিত করা হলেই একাধিক সন্তানের জন্মের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই ধারণা ভুল। বরং এমনটা করলে ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। এমনকি, গর্ভপাতের সম্ভাবনাও বেশি। চিকিৎসকরা একটি ভ্রূণ স্থানান্তরিত করার ক্ষেত্রেই বেশি জোর দেন।

ওভারিতে সিস্ট, ফ্যালোপিয়ান টিউবে ব্লক, এন্ডোমেট্রিয়োসিস বা পলিসিস্টিক ওভারি থাকলে অনেক সময়ে ল্যাপরোস্কোপি-হিস্টিরিয়োস্কোপি করা হয়। এই পদ্ধতিগুলিতে সন্তান আসার সম্ভাবনা বাড়ে।

আইইউআই (IUI) কী?

আইইউআই হল ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন, অর্থাৎ ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে কাছাকাছি আনা হয়। সঙ্গমের পরে বা নিয়মিত যৌন সংসর্গের পরেও সন্তান না এলে তখন এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়। ফ্যালোপিয়ান টিউবে মাঝারি ধরনের ব্লকেজ থাকার কারণে মহিলার ডিম্বাশয়ে নিয়মিত ডিম্ব নিঃসরণ না হলে বা পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট কম থাকলে অথবা শুক্রাণুর মান খারাপ হলে, তখন আইইউআই পদ্ধতিতে কৃত্রিমভাবে স্পার্ম  গর্ভাশয়ে প্রবেশ করানো হয়। যদি শুক্রাণু গতিশীলতা কম থাকে তাহলে এই পদ্ধতিতে স্পার্ম ইনজেক্ট করে সরাসরি শুক্রাণু আর ডিম্বানুকে কাছাকাছি (IVF Vs IUI) আনা হয়।

IUI

কী এই পদ্ধতি? পিরিয়ড শুরুর দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় দিন থেকে ওষুধ বা গোনাডোট্রপিন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এবং তা নিতে হবে ৫ থেকে ১০ দিনের জন্য। প্রত্যেক ৩-৪ দিন অন্তর সোনোগ্রাফির মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা চালানো হবে। ওষুধ বা ইঞ্জেকশনে কেমন সাড়া মিলছে সেটা পরীক্ষা করে দেখেন ডাক্তারবাবুরা।

ডিম্বনিঃসরণের সর্বশেষ বা চূড়ান্ত পদ্ধতি শুরু করতে এইচসিজি ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে। এর ঠিক ৩৬ ঘণ্টা পরে আইইউআই পদ্ধতি শুরু হবে। এক্ষেত্রে আপনার পুরুষ সঙ্গীকে ওই একই দিনে সিমেনের নমুনা দিতে হবে। এক্ষেত্রে যদি কোনও সমস্যা হয় তাহলে পূর্বের সংরক্ষিত সিমেনও ব্যবহার করা যেতে পারে। সিমেনের নমুনা আগে ল্যাবরেটরিতে ঠিক করে নেওয়া হয়। তারপর তা প্রয়োগ করা হয়। সিমেন প্রয়োগের পর নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে ও ওষুধ খেতে হবে। আপনার গর্ভাধারণ নিশ্চিত করতে সিরাম বেটা-এইসিজি (hCG)পরীক্ষাও করা হবে।

আইভিএফের ক্ষেত্রে ঋতুচক্রের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন থেকে রোগীকে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ (ফলিকিউলার স্টাডি) করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ইঞ্জেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে কিছু ভাল ডিম্বাণু তৈরি করান। এর লক্ষ্য থাকে দুটো। প্রথমত, এমন ভাবে ওষুধ দিতে হবে যাতে বেশি সংখ্যায় ডিম্বাণু তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, ডিম্বাণুর ক্রমিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঠিক করা হয়, কবে ডিম্বাণুগুলি শরীরের বাইরে বার করে আনা হবে। তারপর আসল প্রক্রিয়া শুরু হবে।