বয়স ৩০ পার হলে মেয়েদের যে মেডিক্যাল টেস্টগুলো অবশ্যই করিয়ে নিতে হবে

গুড হেলথ ডেস্ক

‘নারীচরিত্র বেজায় জটিল, কিছুই বুঝতে পারবে না…’ সত্যিই তাই। হৃদয়ের (Heart Disease) গভীরে মেয়েরা কত কিছু যে লুকিয়ে রাখে তার ইয়ত্তা নেই (Women Health)। বুক ধড়ফড় করছে, পিরিয়ডে সমস্যা হচ্ছে, শরীর দুর্বল বা বাতের ব্যথা ধরছে, সবকিছুই মেয়েরে মুখ বুঝে সয়ে নেয়। সংসার, দায়িত্ব, পেশা সব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে নিজের শরীরের খেয়াল রাখেন না বেশিরভাগ মেয়েই। ফলে ভবিষ্যতে গিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়।

সকালে উঠে রান্নাবান্না সেরে, ঘরকন্না সামলে অটো-বাস-মেট্রো ঠেঙিয়ে ছুটতে হয় কর্মস্থলে। সেখানে গিয়েও মাথায় একরাশ চিন্তা।  ‘প্রফেশনাল হ্যাজার্ডস’ এর সঙ্গে লড়তে হয়। আবার বাড়ি ফিরেই সংসারের হাজারো কাজ। একই সঙ্গে আছে মানসিক চাপ (Women Health)। সবকিছুর সঙ্গে যুঝতে গিয়ে মেয়েরা ভুলেই যান শরীরে কী কী বদল হচ্ছে। তার ওপর খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম তো আছেই। ঘরকন্না সামলাতে গিয়ে ঠিকমতো প্রাতরাশ খান না অনেকেই। দিনভর পেস্ট্রি, রোল, চাউমিন যখন যা হাতের কাছে পাওয়া যায়। ধূমপান করেন যাঁরা, তাঁদের সমস্যা আরও। সরাসরি হার্টে প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইফস্টাইলে অনিয়ম এবং স্ট্রেস-সবকিছুর কারণেই মেয়েদের শারীরিক সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। চুপিয়াড়ে মারণ রোগও বাসা বাঁধছে। তাই আগে থেকেই কিছু মেডিক্যাল টেস্ট করিয়ে রাখলে বোঝা যাবে শরীরে কোনও সমস্যা হচ্ছে না।

Executive Health Checkup

বয়স ৩০ পেরলো মেয়েরা অবশ্যই যে মেডিক্যাস টেস্টগুলো করিয়ে রাখবেন

লিপিড প্রোফাইল

সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে শরীরচর্চা ও খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম চলতেই থাকে। সেক্ষেত্রে রক্তে কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ছে কিনা জানতে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত (Women Health)।

থাইরয়েড টেস্ট, হিমোগ্রাম

ওজন বাড়ছে, গলার কাছে ফোলা ভাব, ভুলে যাওয়ার সমস্যা বাড়তে থাকলে থাইরয়েড টেস্ট করিয়ে নিন। অনেক মেয়ের মধ্যে অ্যানিমিয়া এবং থাইরয়েডের মতো অসুখের কোনও রকম উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু পরীক্ষা করালে এই অসুখগুলি ধরা পড়ে। আপনার হিমোগ্লোবিন কতটা এবং থাইরয়েড ধরেছে কিনা সেটা জেনে ট্রিটমেন্টে থাকা জরুরি।

জরায়ুমুখের ক্যানসার/সার্ভিক্যাল ক্যানসার

সার্ভিক্যাল ক্যানসারের প্রকোপ এখন বেড়েছে। মেয়েদের (Women Health) ৬৫ বছর বয়স অবধি জরায়ু পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত ক্যানসারের সম্ভাবনা আছে কিনা।

পিসিওএস

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এখন ঘরে ঘরে। মেনস্ট্রুয়েশন সাইকেল নিয়মিত না হলে, মুখে অবাঞ্চিত ব্রণ বা রোম থাকলে, পিসিওএস টেস্ট করে নেওয়া জরুরি। পেটের আলট্রাসোনোগ্রাফি করলে দেখা যাবে, ওভারির আয়তন বেড়ে গেছে এবং ছোট ছোট সিস্ট দেখা যাচ্ছে।

Home blood collection

ম্যামোগ্রাম

অনেকসময়েই মহিলাদের স্তনে একটি ছোট্ট লাম্প বা ফোলাভাব দেখা যায়। স্তনবৃন্ত থেকে ক্ষরণও হতে পারে।  গাফিলতির কারণে এই ছোট্ট লাম্পটিই বড় আকার ধারণ করে এবং তা স্তনের ক্যানসারে পরিণত হতে পারে। অনেকসময়েই স্তনের ফোলাভাবটি কিন্তু ম্যালিগন্যান্ট হয়। তাই যদি কখনও স্তনে ব্যথা হয় বা কোনও অবাঞ্ছিত অংশ বা মাংসপিন্ড দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের সাহায্য নিন এবং ম্যামোগ্রাম টেস্ট করিয়ে নিন।

 

প্রেগন্যান্সির জন্য কিছু পরীক্ষা

৩০ বছর বয়সের পর মেয়েদের শরীরে ডিম্বাণু উৎপাদনের ক্ষমতা একটু একটু করে কমতে থাকে। তিরিশের শেষের দিকে গিয়ে তা অনেকটাই কমে যায়। মাতৃত্ব পরিকল্পনা করার আগে অবশ্যই কিছু শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে দেখে নিতে হবে শরীরে কোনও রকম সমস্যা রয়েছে কি না।

 

ফার্টিলিটি টেস্ট

মেয়েদের জননতন্ত্রের নানা সমস্যা ইদানীং কালে যেন ঘরে ঘরে বাড়ছে। এর ফলে শারীরিক অসুস্থতা তো বটেই, সেই সঙ্গে বড় সমস্যা হয়ে উঠছে বন্ধ্যত্ব? বহু দম্পতি ভুগছেন গর্ভধারণ না করতে পারার সমস্যায়।তাই বিয়ের আগে ফার্টিলিটি টেস্ট করিয়ে রাখা জরুরি। পুরুষের ফার্টিলিটি চেক করার জন্য সিমেন টেস্ট আর মেয়েদের জন্য ওভিউলেশন টেস্ট করানো হয়। জননতন্ত্রে কোনরকম জেনেটিক অ্যাবনর্মালিটি আছে কিনা তা দেখার জন্য পেলভিক আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করানো দরকার। তাছাড়াও প্রোল্যাক্টিন, FSH,  LH, টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন ইত্যাদি হরমোনের পরীক্ষা অবশ্যই করিয়ে রাখুন।

 body check-up

ফ্যালোপিয়ান টিউব ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা করিয়ে রাখতে পারেন

ফ্যালপিয়ান টিউব ওপেন আছে কিনা কোনও প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা তা দেখার জন্য এই পরীক্ষাগুলো করা হয়। টেস্টগুলোর নাম হল, এইচএসজি বা হিস্টেরোস্যালপিনগোগ্রাফি, এসআইএস বা স্যালাইন ইনফিউশন সোনোগ্রাফি অথবা ডায়াগনস্টিক ল্যাপ্রোস্কোপি। এর মাধ্যমে আমরা বুঝে যায়, টিউব খোলা আছে না ব্লক আছে। ওপেন থাকলে তো কোনও সমস্যা নেই।

 

ব্লাড সুগার টেস্ট

অবশ্যই করাতে হবে। মেয়েদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি। ইদানীং কালে অনিয়ন্ত্রিত ডায়েট এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হার্ট ভাল আছে তো?

বংশে এই রোগের ইতিহাস, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিসের ধাত, ধূমপানের অভ্যেস, বেশি কোলেস্টেরল, অত্যধিক স্ট্রেস থাকলেই ডাক্তার দেখান। বছরে অন্তত এক বার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা কিন্তু জরুরি।