জরায়ু মুখ ঢিলে, ধরে রাখতে পারছে না ভ্রূণ, গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকলেও চিকিৎসা আছে

গুড হেলথ ডেস্ক

পর পর তিনবার গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ (Miscarriage) হয়েছিল পূজার। প্রেগন্য়ান্সির পর প্রথম দু’বার ফার্স্ট ট্রাইমেস্টারেই মিসক্যারেজ হয়ে যায়। তৃতীয় বার দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে গর্ভপাত হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, পূজার জরায়ুমুখ ঢিলে, ফলে ভ্রূণ ধরে রাখতে পারছে না। তাই বারে বারে দুর্ঘটনা করছে।

miscarriage

গর্ভপাত কেন হয়?

জন্মের আগেই সন্তান হারানো (Miscarriage) মায়েদের সংখ্যা কম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পরিসংখ্যাণ জানাচ্ছে, অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন এমন হবু মায়েদের ১০-১৫ শতাংশ গর্ভপাতের কষ্ট ভোগ করেন।  সাধারণ ভাবে গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহের আগে সন্তান হারালে ‘মিসক্যারেজ’ বলা হয়। কিন্তু গর্ভস্থ সন্তান গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ বা তার পরে মারা গেলে বলা হয় ‘স্টিলবার্থ’। দুই অবস্থাকেই ডাক্তারি ভাষায় গর্ভপাত বলে।

স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ গর্ভপাত হয় গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ প্রথম ট্রাইমেস্টারে। দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে শতকরা ১-৫ শতাংশ মায়ের গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে মায়ের কোনওরকম শারীরিক অসুস্থতা থাকতে পারে।

ম্যালেরিয়ার জীবাণু ফুঁসছে, ফিরে ফিরে আসছে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছে ভ্যাকসিন

Cervical Insufficiency

গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকলেও চিকিৎসা আছে

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারে বারে গর্ভপাত (Miscarriage) হচ্ছে যে মায়েদের তাঁদের জরায়ু মুখ ঢিলে থাকতে পারে, ফলে ভ্রূণ ধরে রাখতে পারে না জরায়ু। একাধিকবার গর্ভপাত হলে সেই সমস্যাকে বলে  ‘ইনকম্পিটেন্ট সার্ভিক্স’ (Incompetent cervix)। কোনওরকম অস্ত্রোপচার থেকে, শারীরিক সমস্যা যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েড থাকলে বা জন্মগত কারণেও ইনকম্পিটেন্ট সার্ভিক্সের সমস্যা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে জরায়ু মুখে হাল্কা ফাঁসের মতো সেলাই করে দিলে গর্ভপাতের ঝুঁকি অনেক কমে। সাধারণত অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার আগেই জরায়ুমুখ স্টিচ করে দেন ডাক্তারবাবুরা। তবে তাতে সন্তানধারণে কোনও সমস্যা হয় না। আলগা ফাঁসের মতো সেলাই থাকে। ডাক্তারি ভাষায় এই পদ্ধতির নাম ‘অ্যাবডোমিনাল এনসার্কলেজ’ (Transabdominal Cervical Cerclage)।

 Abdominal Cerclage

গর্ভপাত (Miscarriage) ঠেকাতে ডাক্তারবাবুরা স্বাস্থ্য়কর খাবার খাওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন হবু মায়েদের। পরিমিত খাবার, পুষ্টিকর ডায়েটে থাকতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে শরীরচর্চা করতে হবে। ধূমপান ও মদ্যপান ভীষণ ক্ষতিকর এই সময়ে। বারে বারে চা ও কফি খাওয়ার অভ্য়াস ছাড়তে হবে। ক্য়াফেইন মা ও গর্ভস্থ ভ্রূণের জন্য় ক্ষতিকর। হবু মায়ের ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ, থাইরয়েড, হরমোনের সমস্যা বা কোনওরকম অটোইমিউন ডিজিজ থাকলে আগে থেকে সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে রাখতে হবে। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম থাকলেও গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে। তাছাড়া স্বামী ও স্ত্রী দু’জনেই এসটিডি ( Sexually transmitted Diasease) টেস্ট করিয়ে নিন। কারও একজনেরও যৌনরোগ থাকলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।