সন্তান নেওয়ার জন্য কোন বয়স আদর্শ? হবু মায়েদের কী কী মাথায় রাখতে হবে

গুড হেলথ ডেস্ক

সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে এখন অনেকেই দেরিতে বিয়ে করেন। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করতেও দেরি হয়। তাই অনেকেরই প্রশ্ন থাকে সন্তান (Pregnancy) নেওয়ার আদর্শ বয়স কত।

এমনও দেখা গেছে, বয়স বেড়েছে, সন্তান আসেনি। হতাশা আর একাকীত্ব বাড়ছে। সমাজের ভয়ে সন্তানের কথা ভাবতে পারছেন না। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, চল্লিশ পেরিয়েও মা হওয়া যায়। এখন প্রায়ই হচ্ছে। এমনকী পঞ্চাশের পরেও মা হচ্ছেন অনেকে (Pregnancy)। তবে সন্তান নেওয়ার একটা সঠিক সময় আছে। বেশি বয়সে মা হওয়া যায় যদি শরীর সেভাবে তৈরি থাকে, তবে ঝুঁকি থেকেই যায়।

Pregnancy

মা হওয়ার আদর্শ বয়স কত?

ডাক্তারির দিক থেকে বলতে গেলে মা হওয়ার আদর্শ বয়স হল ২১ থেকে ৩০ বছর। অর্থাৎ একটি মেয়ের ফার্টিলিটি বা উর্বরতা এই বয়সেই সবচেয়ে বেশি থাকে। ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে ওভারিয়ান ফাংশন বা ওভুলেশন কিছুটা ব্যাহত হয়। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, ভারতীয় মহিলাদের ৩৩ বছরের পর থেকে সন্তানধারণে নানারকম সমস্যা আসতে পারে। প্রথমত, ফার্টিলিটি কমতে থাকে, দ্বিতীয়ত সন্তানধারণ করলেও সন্তানের মধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ৩০ বছরের মধ্যে বেবি প্ল্যানিং করা সবচেয়ে ভাল (Pregnancy)।

Pregnancy

বেশি বয়সে মা হওয়ার কী ঝুঁকি থাকে?

চাইলেন আর মা হয়ে গেলেন, ব্যাপারটা কিন্তু অত সহজ নয়। প্রথমত অনেক ক্ষেত্রেই প্রেগন্যান্সি আসতে চায় না। আসলে ৩০-এর পর থেকে মেয়েদের শরীরে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে। ৩৫ বছরের পর প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা কমতে থাকে। প্রেগন্যান্সি এলেও হরমোনের গোলমালের জন্য মিসক্যারেজ বা গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

অন্য সমস্যাও হতে পারে। ডিম্বাণুর গুণমান ভাল না হলে বাচ্চা বিকলাঙ্গ হতে পারে। বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে মায়ের স্বাস্থ্যও। সে ক্ষেত্রেও প্রেগন্যান্সিও জটিল হয়ে পড়ে। সময়ের আগে জন্মালে বাচ্চার ওজন কম হতে পারে। তাই ৩০ বছরের আগেই মা হওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আর ৩৫ হল মাতৃত্বের ডেডলাইন।

হবু মায়েরা কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন

১) ‘প্রি-কনসেপশনাল কাউন্সেলিং’ এখন এ দেশেও হচ্ছে। সন্তান নেওয়ার কথা যদি ভাবেন তাহলে একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিন। কী কী মেডিক্যাল টেস্ট করাতে হবে ডাক্তার বুঝিয়ে বলে দেবেন।

২) হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড—এই তিনটির যে কোনও একটি থাকলেই আগে ডাক্তার দেখিয়ে নিতে হবে। এগুলির কোনও একটি থাকলে সন্তানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

 Pregnancy

৩)  যদি মৃগী রোগ থাকে তাহলে মা হওয়া যাবে কিনা সেটা জেনে নিতে হবে।

৪) মায়ের ভেনাস থ্রম্বোসিস (রক্ত জমাট বাঁধা), জেস্টেশনাল ডায়াবিটিস থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ দরকার। সেক্ষেত্রে সদ্যজাতর ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো হতে পারে তা হল, প্রিম্যাচিয়োর বার্থ, ডাউন সিনড্রোম, লো বার্থ ওয়েট ইত্যাদি।

৫) থ্যালাসেমিয়া টেস্ট করিয়ে নেওয়া ভাল। রুবেলা ইমিউনিটি না থাকলে তার ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়।

৬) বয়স ৩৯ পার করে গেলেই সেই মহিলার রক্তের এনআইপিটি টেস্ট করে নেওয়া হয়। তাতেই ৯৯ শতাংশ বলে দেওয়া যায় বাচ্চার ডাউন সিন্ড্রোম হতে পারে কিনা।

৭) চল্লিশ এবং তার বেশি হয়ে গেলেই সেটা হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি। এই বয়সে নর্মাল ডেলিভারি হলে পরবর্তীতে মল ধরে রাখতে অসুবিধে, পেলভিক ফ্লোরে উইকনেসের মতো সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

৮) নিজে সুস্থ থাকলেই সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়া যায়।  তাই বেশি বয়সে সন্তানধারণে কোনও ভয় বা লজ্জার কারণ নেই।