পিরিয়ডের আগে খিটখিটে মেজাজ, তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা, প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোমে ভুগছে কমবয়সিরাই

গুড হেলথ ডেস্ক

খেয়াল করে দেখুন পিরিয়ড শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিনগুলোতে আপনার শরীর ও মন কেমন থাকে। শরীরে অস্বস্তিটা শুরু হয় ঠিক এক সপ্তাহ আগে থেকেই (Premenstrual syndrome)। মাঝে মধ্যেই মেজাজ চড়ে যায়, রাগ-বিরক্তি উগড়ে দেন আপনজনেদের ওপরেই। খেতে গেলে বমিভাব, অহেতুক চিন্তা, মন খারাপ, অবসাদ সবই দেখা দিতে থাকে একে একে।

আপনি হয়ত ভাবছেন অফিসের চাপ বা পারিবারিক ক্ষেত্রে মানসিক চাপ বাড়ছে। তবে খেয়াল করে দেখেছেন কি, এগুলো শুধুই মানসিক অসুখ কি না? মাসের একটা নির্দিষ্ট সময়েই এটা হচ্ছে না তো? পাশাপাশি লো-ব্যাক পেন, ঝিমুনি, পায়ে-কোমরে ব্যথা, বমিভাব– এগুলোও একইসঙ্গে দেখা দিচ্ছে কি?

PMS

এমন সব লক্ষণ যদি আপনারও দেখা দিতে থাকে তাহলে এগুলো সবই প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোমের কারণেই হচ্ছে। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে পিএমএস (PMS)। খুবই চেনা উপসর্গ। আসলে কোনও রোগ নয়, সিনড্রোম যা কমবেশি সব মেয়েকেই ভোগায়। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এখন কমবয়সী মেয়েদের মধ্যে পিএমএসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। মেনোপজের ঠিক আগে মধ্যবয়সী মহিলাদেরও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোমে (Premenstrual syndrome) ঠিক কী কী হয়?

লক্ষণগুলো শুনে আপনিও হয়ত মিলিয়ে নিতে পারবেন। ঠিক এমনই কিছু উপসর্গ দেখা দিতে থাকে পিরিয়ডের আগের দিনগুলোতে। পিএমএস কিন্তু সন্তানধারণে সক্ষম যে কোনও মহিলারই হতে পারে। মাসিক ঋতুস্রাব শুরুর পর থেকে মেনোপজ অবধি, সব বয়সের মহিলারই পিএমএস হতে পারে। ঋতুচক্র শুরুর ঠিক ৭ থেকে ১০ দিন আগে পিএমএসের লক্ষণগুলো ফুটে উঠতে থাকে।

শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক সমস্যাও বাড়ে।

 PMS

 

শরীরে কী কী অস্বস্তি শুরু হয়? শরীর ভারী হয়ে যাওয়া, তলপেট, পিঠ ও কোমরে ব্যথা, পেশিতে টান ধরে যাওয়া। একটানা তলপেটে ব্যথা, মাঝেমধ্যে পেলভিক অংশে ব্যথা।

স্তনবৃন্ত ফুলে যাবে, স্তনের চারপাশে চামড়া শক্ত হতে পারে, স্তনে ব্যথা।

বমিভাব, ক্লান্তি-ঝিমুনি, ব্রণর সমস্যা, মাথা যন্ত্রণা, হজমের সমস্যা ভোগাবে। কিছু খেলেই অ্যাসিডিটি হয়ে যেতে পারে।

মনের ওপর কী প্রভাব পড়ে? অল্পেই বা অকারণ রাগ

সবসময় বিরক্তি ভাব, খিটখিটে মেজাজ

ঘন ঘন মুড সুয়িং

মানসিক অবসাদ

অত্যধিক উদ্বেগ, সবসময় চিন্তা হওয়া, অ্যাংজাইটি

ঘুম কম হতে পারে

অনিয়ন্ত্রিত আবেগ

ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং, সাদা স্রাবে দুর্গন্ধই জানান দেবে জরায়ুমুখের ক্যানসার হচ্ছে কিনা

PMS

কেন হয় পিএমএস?

স্ত্রী হরমোন ইস্ট্রোজেন আর প্রোজেস্টেরনের তারতম্যের কারণেই এমন উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। এই দুই হরমোনের তারতম্যের জন্য সেরোটনিনের মাত্রা বিগড়ে যায়, ফলে শরীরের পাশাপাশি মানসিক ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা দেখা দিতে থাকে (Premenstrual syndrome)।

পিএমএস সাধারণত খুব ভয়ের কারণ নয়, কিন্তু যদি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যায় তাহলে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম, প্যানিক অ্যাটাক, মুড ডিসঅর্ডারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় থাইরয়েড কিংবা সিস্টের সমস্যার ক্ষেত্রেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস থাকলেও এই সমস্যা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যেতে পারে। এমন হলে গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভাল।

PMS
বদলান লাইফস্টাইল

পিএমএস নিয়ে অযথা ভয় পাবেন না। বরং লাইফস্টাইল বদলে এই সমস্যার মোকাবিলা করা যেতে পারে। সারাদিনের রুটিন একটা নিয়মে বাঁধুন। সুষম খাবার, নিয়মিত এক্সারসাইজ, পর্যাপ্ত জল খাওয়া ও সময়মতো ঘুম পিএমএসের সমস্যা কমিয়ে দিতে পারে। এই সময় পেন কিলার খেয়ে বিপদ বাড়াবেন না।

রোজকার ডায়েটে ডিম, দুধ, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, ফল, সবুজ শাকসব্জি বেশি করে খেতে হবে।

বেশি জাঙ্ক ফুড, সফট ড্রিঙ্কস, অতিরিক্ত মদ্যপান ক্ষতি করতে পারে।