মেয়েদের প্রস্রাবের সংক্রমণ বা ইউটিআই কেন বেশি হয়, কীভাবে সতর্ক থাকবেন

ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউ টি আই (Urinary tract infections/UTI) এখন খুব পরিচিত একটি সমস্যা। মূলত ব্যাকটেরিয়ার কারণে মূত্রনালীতে এই সংক্রমণ হয়। যে কোনও বয়সি পুরুষ বা মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, তবে মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তলপেটের ব্যথা, বারবার প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবের সময় যোনিতে জ্বালা-ব্যথাভাব, সেই সঙ্গে শীত শীত ভাব, কাঁপুনি–এ সবই হল প্রস্রাবের সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গ।

UTI

ইউটিআই (Urinary tract infection) কেন হয়?

শারীরিক গঠনের কারণে মেয়েদের প্রস্রাবের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। মূত্রথলি বা ইউরিনারি ব্লাডার থেকে ইউরেথ্রা বা মূত্রনালী নামক একটা সরু নলের মতো সূক্ষ্ম নালী দিয়ে প্রস্রাব শরীরের বাইরে আসে। মেয়েদের ইউরেথ্রা মাত্র তিন থেকে চার সেন্টিমিটার লম্বা। আর মলদ্বারের সংলগ্ন থাকায় চট করে ব্যাকটেরিয়া বা যে কোনও জীবাণুঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হয়। 

আমাদের অন্ত্রে থাকে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া। মলের সঙ্গে এই ব্যাকটেরিয়া বের হয়। মহিলাদের প্রস্রাবের জায়গা ও মলদ্বার কাছাকাছি থাকায় এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ (Urinary tract infection) বেশি হতে দেখা যায়। 

 UTI

তাছাড়া আরও কারণ আছে। অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার করলে, যোনি পরিষ্কার না রাখলে,  খুব আঁটোসাঁটও অন্তর্বাস পরলেও প্রস্রাবের সংক্রমণ বা ইউটিআই (UTI) হতে পারে। 

লক্ষণ চিনে সতর্ক হতে হবে

বারবার প্রস্রাব পাওয়া

প্রস্রাব করার সময় প্রচণ্ড জ্বালা-যন্ত্রণা হওয়া, তলপেটে ব্যথা

শীত শীত করতে পারে, অনেকের কাঁপুনি দেয় শরীরে

খিদে কমে যাবে, বমি ভাব থাকবে, শরীর দুর্বল লাগবে

প্রস্রাবের রং ঘোলাটে হতে পারে, সঙ্গে রক্তও পড়তে পারে

প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হবে

কলেরার মড়ক, শরণার্থী শিবিরগুলিতে লাশ পচা গন্ধ, প্রাণ বাঁচাতে ‘ভগবান’ হয়ে এসেছিলেন ওআরএসের স্রষ্টা

UTI

এই ধরনের লক্ষণ দেখলে রুটিন ইউরিন টেস্ট (Urinary tract infection) ছাড়া ইউরিন কালচার এবং দরকার হলে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান, এক্স-রে ও  টেস্ট ছাড়া ইউরিন কালচার এবং দরকার হলে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান, এক্সরে, ডিএমএসএ স্ক্যান করিয়ে নিতে হবে।

প্রতিদিন স্নানের সময় জল দিয়ে যোনি পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন রাখাটা দরকারি। বাজার চলতি কেমিক্যাল ব্যবহার না করে জল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ভ্যাজাইনাল লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ঋতুস্রাবের সময়েও এই পরিচ্ছন্নতাটা খুবই প্রয়োজনীয়।

অন্তর্বাস কাচুন নিয়মিত। সেই ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত কড়া সাবান ব্যবহার না করাই ভাল। কাচার পরে কড়া রোদে শুকোনো জরুরি। অন্ধকার, স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় শুকনো করা অন্তর্বাস কিন্তু সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

ঋতুস্রাবের সময়ে নির্দিষ্ট সময়ের অন্তরে ন্যাপকিন বদল করার কথা আলাদা করে বলার বিষয় নয়। তার পরেও সমস্যা এড়াতে মেনস্ট্রুয়াল কাপ ভাল বিকল্প হতে পারে ঋতুস্রাবকালীন যোনি-সমস্যার সুরাহায়।

অনেকেই বাজার চলতি নানা লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করেন। যেগুলো পরবর্তীকালে পিরিয়ডের সমস্যা, যৌনাঙ্গের নানা রোগের কারণ হয়। সে ক্ষেত্রে নারকেল তেল, অলিভ অয়েলই আদর্শ ভ্যাজাইনাল লুব্রিক্যান্ট হতে পারে।