শীত মানেই পার্টি-পিকনিক, অনিয়মে ভুঁড়িও বাড়ছে, এই সময়ের ডায়েট চার্ট কেমন হবে

গুড হেলথ ডেস্ক

শীতকাল মানেই মনটা পার্টি পার্টি করে। উত্তুরে হাওয়া একটু জাঁকিয়ে বসলেই পিকনিকের প্ল্যান শুরু হয়ে যায়। আর খাওয়ারও কমতি নেই। আজ পার্টি, তো কাল পিকনিক। পরশু বন্ধুদের আড্ডায় মদের ফোয়ারা। কাজেই শীতকাল এলেই ডায়েটের একদম দফারফা হয়ে যায়। লেপ-কম্বলের উষ্ণ আরাম ছেড়ে শরীর নাড়াচাড়া করতে ইচ্ছা করে না। অতএব ডায়েট-এক্সারসাইজে ইতি। তাই ভুঁড়িও বাড়তে থাকে আপন মনে।

বছরের কয়েকটা দিন নতুন গুড়ের পায়েস, পুলি-পিঠে, কেক, মদ-মাংস খেলে খুব একটা ক্ষতি নেই। কিন্তু রোজকার ডায়েট জলাঞ্জলি দিলেই মুশকিল। মনকে বোঝাতে হবে, সারা বছর সুস্থ থাকতে হলে আনন্দটাও একটু নিয়ম মেনেই করতে হবে। শীতে পার্টি করুন, পিকনিকে ভূরিভোজ খান ক্ষতি নেই, কিন্তু তারপরে ডায়েটও মেনে চলতে হবে। সেই সঙ্গে জরুরি শরীরচর্চা। রোজ অন্তত ২০ মিনিট করে ব্যায়াম করলেও বাড়তি মেদ জমতে পারবে না।

 winter diet plan

যদি গ্যাস-অম্বল-বুকজ্বালা-পেটভারের মতো সমস্যা হয় বা ব্রণ দেখা দেয়, তা হলে বুঝতে হবে যে খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানার সময় হয়েছে। সেটা কীভাবে সম্ভব? প্রথমেই খাওয়ার পরিমাণটা কমান। ঠিক যতটা বিরিয়ানি বা ফ্রায়েড রাইস পাতে তুললে মনে শান্তি পেতেন, তার চেয়ে একটু কম তুলুন। যেদিন পিঠে-পুলি খাবেন, সেদিন অন্য মিষ্টি বা চিপস-কোল্ড ড্রিঙ্কস খাবেন না। সারা দিন অল্প গরম জল খেতে পারেন ছোট ছোট চুমুক দিয়ে। তাতে মেটাবলিজ়ম বাড়ে। দিনের শুরুতে এক কাপ উষ্ণ জলে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন। বন্ধুদের আড্ডায় অ্যালকোহল খেতে হলে তার মাত্রা একটু কমিয়ে দিন। এর সঙ্গে ময়দার খাবার বা বেশি ঝালমশলা দেওয়া কিছু খাবেন না। চেষ্টা করুন রোস্টেড আইটেম খেতে। 

Balanced Diet

এই সময় কেমন ডায়েট মানলে ভাল হবে

পুষ্টিবিদেরা বলছেন, রোজ নিয়ম মানলে পরে গিয়ে সমস্যা কম হবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে গরম জল খান। অথবা উষ্ণ গরম জলে লেবুর রস আর মধু মিশিয়ে খান।

ব্রেকফাস্ট কী কী হতে পারে— চিনি ছাড়া এক কাপ চা/গ্রিন টি বা হার্বাল টি।

সেই সঙ্গে দুই স্লাইস ব্রাউন ব্রেড, শশা, টমেটো দিয়ে স্যান্ডউইচ বা দুই স্লাইস ব্রাউন ব্রেডের সঙ্গে দুটো ডিমের সাদা অংশ।

অথবা স্কিমড দুধ দিয়ে চিনি ছাড়া এক বাটি ওটমিল বা কর্নফ্লেক্স।

দুধের সঙ্গে ওটস মিশিয়ে পরিজ বানিয়ে নিতে পারেন।

এক বাটি ফল। পেঁপে, তরমুজ, আঙুর, বেদানা জাতীয় ফল হলে ভাল।

 

ব্রেকফাস্টের দু’ঘণ্টা পর- এক মুঠো আমন্ড বা আখরোটের সঙ্গে এক কাপ গ্রিন টি। অথবা এক গ্লাস টমেটো বা গাজরের রস।

লাঞ্চ— এক কাপ সাদা ভাত, সঙ্গে কম মশলা দিয়ে রান্না করা সব্জি, এক বাটি ডাল, চিকেন স্টু অথবা হালকা মাছের ঝোল। সঙ্গে সালাড।

সাদা ভাতের বদলে লাল আটার রুটি বা ব্রাউন রাইস খেলে বেশি ভাল হয়।

লাঞ্চের দু’ঘণ্টা পর- এক কাপ গ্রিন টি, সঙ্গে একমুঠো বাদাম বা ছোলা।

ডিনার- লাঞ্চের মতোই। তবে ভাত বা রুটি না খেয়ে স্টিমড সবজি বা চিকেন, সালাড বা ভেজিটেবিল স্যুপ খেতে পারেন।

দিনে অবশ্যই তিন লিটার বা তার বেশি জল খেতে হবে।

ভাজাভুজি, মিষ্টি, ফাস্ট ফুড, কেনা ফ্রুট জুস, কোল্ড ড্রিঙ্ক একেবারেই বাদ দিতে হবে।