ভেরিকোজ ভেনের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন উপসর্গ ও প্রতিকার

গুড হেলথ ডেস্ক

শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল পা। আমাদের দাঁড়িয়ে থাকা, হাঁটা-চলা,দৌড়ানো, — এই সব কিছুতেই সামাল দেয় আমাদের পা। প্রতিদিনের জীবনে, যাঁদের পায়ে অত্যন্ত চাপ পড়ে, তাঁদের পায়ের শিরায় এক ধরনের সমস্যা দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে পায়ের শিরা ফুলে গিয়ে গাঢ় নীলচে রঙের রেখা চামড়ার উপরে ফুটে ওঠে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই রোগকে বলা হয় ভেরিকোজ ভেন (Varicose veins)।

ভুক্তভোগীরাই ভেরিকোজ ভেনের কষ্টের কথা হাড়ে হাড়ে টের পান। ভারতের ৭ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। যদিও এই রোগ সম্পর্কে এখনও অনেকগুলি বিষয় বহু মানুষের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। কী ভাবে সুত্রপাত হয় ভেরিকোজ ভেনের? এই রোগের উপসর্গগুলি কী? এই রোগের চিকিৎসাপদ্ধতিই বা কী?

আমাদের ভেন বা শিরার মধ্যে কিছু ছোট ছোট ভালভ থাকে। শিরার মধ্যে রক্তস্রোত যেন একটি নির্দিষ্ট অভিমুখেই প্রবাহিত হয়, তা নিশ্চিত করাই এই ভালভগুলির কাজ। কোনও কারণে এই ভালভগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কার্যক্ষমতা হারালে দূষিত রক্ত শিরার মধ্যে প্রবেশ করতে আরম্ভ করে। তখন শিরা-উপশিরাগুলি কুঁকড়ে যায়, স্বাভাবিক আকার হারিয়ে ফুলে ওঠে। ব্যথা হয় এবং ত্বকের উপর থেকে স্পষ্ট দেখাও যায়। যে কোনও বয়সে এই সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

Varicose Veins

উপসর্গ কী কী?

পায়ের শিরা ঘন নীল বা সবজেটে দেখায়।

·পায়ের শিরা পাকানো দড়ির মতো হয়ে যায়, যা বাইরে থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।

·পায়ের পাতা ফুলতে শুরু করে, জ্বালা ভাব , মাসল ক্র্যাম্প ও পায়ের ক্লান্তি দেখা দেয়।

·যে অংশে শিরা ফুলে ওঠে সেখানে ইচিং হয়।

·পায়ের ত্বকের রঙ বদলে যায়, ত্বক শুকিয়ে পাতলা হয়ে যায়, ত্বক থেকে আঁশ ওঠে এবং ফুলে যায়।

এবার প্রশ্ন, কী করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। প্রথমত, একবার ভেরিকোজ় ভেনের সমস্যা তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা ও সারিয়ে তোলাটা সময়সাপেক্ষ। ধৈর্য ধরতে হবে। সেই সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম করাও খুব জরুরি। হাঁটা, দৌড়নো, সাঁতার কাটার অভ্যেস আপনার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। এমন পোশাক পরবেন না যা খুব আঁটসাঁট, তাতে রক্তের প্রবাহ আরও বাধাপ্রাপ্ত হবে। হাই হিল নয়, ভাল ফ্ল্যাট বা স্নিকার্স পরলেও আরাম পাবেন। যে সমস্ত জায়গায় সমস্যাটা আছে, সেখানে মাসাজ করলেও ভাল ফল পাবেন।

বেশিক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলেও কিন্তু সমস্যা বাড়বে, তাই যত পারেন হাঁটাচলা করুন। সেই সঙ্গে এমন খাবার খান যাতে সোডিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি নয়, শরীরে অতিরিক্ত নুন ঢুকলে কিন্তু পা ফুলে উঠবে, ব্যথা বাড়বে। পেঁয়াজ, রসুন, ক্যাপসিকাম, সিট্রাস ফল জাতীয় জিনিসপত্র খেতে পারেন, তাতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভিনয়েডস থাকে। ফ্ল্যাভিনয়েডস রক্ত চলাচলের মান উন্নত করে ক্রমশ, রক্ত ঠিকভাবে প্রবাহিত হলে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।